দোয়ারাবাজারে নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা মানুষ। ছবি: প্রতিনিধি
‘গরুর মাংস কেমনে খামু? কমাস ধরে মাছই খাই না। খাইমু কেমনে? যে দাম। সব জিনিসের দাম বাড়তাছে, দিনে-রুজি (আয়) সামান্য। কোনোরকম সংসারটাও চালাইতে হিমশিম খাই।’
প্রশ্ন ছিল- কেমন যাচ্ছে আপনাদের দিনকাল, মাংস খাওয়া হয় মাঝেমধ্যে? হীনমন্যতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে উত্তরে এসব কথা বলছিলেন দোয়ারাবাজারের অটোরিকশা চালক আহাম্মদ আলী।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা এখন নিম্ন আয়ের লোকজন। কাটছাট চলছে বাজার সদাইয়ে। কেউ অনাহারে, অর্ধহারে দিনাতিপাত করছেন। কেবল নিম্ন আয়ের মানুষ না, মধ্যবিত্তের সংসারেও টান পড়েছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আছেন বিপাকে।
কলাউড়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র শামিম আহমদ কবির বলেন, আমরা অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বাইরে বিভিন্ন মেসে থাকি। বাড়তি কোনো আয়না থাকা ফ্যামিলি নির্ভর শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে। তাছাড়া দ্রবমূল্যের দাম বৃদ্ধিতে আমরা একেবারে নাজেহাল হয়ে পড়েছি। কম টাকায় কোনোরকম মেস খরচ চালাতাম। এখন টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ লাগছে যা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই কঠিন।’
দিনমজুর মিজান মিয়া বলেন, ‘সারাদিন কাজ করে ৫০০শ টাকা রুজি করি আলু তেল চাল কিনলেই টাকা শেষ, কি দিয়ে মাছ ডাল কিনি? জীবনটা যায়যায় অবস্থা।’
কুলাউড়া কেন্দ্রীয় মসজিদ ইমাম জিয়াউল হক বলেন, ‘নিত্যপণ্যের সীমাহীন মূল্যের বিরূপ প্রভাবে জনজীবন অতিষ্ঠ। ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় সংসার চালানো খেয়ে না খেয়ে চলার মতো। অপর দিকে হু হু করে বেড়েই চলছে খাদ্য দ্রব্যের দাম। আমাদের দুঃখ বলার জায়গা নেই ‘
দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পেঁয়াজ, রসুন, চাউল, ডাল, তেল, ডিম, গ্যাস, আটা, চিনি, মাছ থেকে শুরু করে বেগুন টমেটো সিম এমন কোনো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নেই, যার দাম বাড়েনি। ফসলি মৌসুমেও তার দাম আকাশ ছোঁয়া। সয়াবিন তেল কেজি প্রতি বাড়তে বাড়তে দুইশ ছাড়ছে।
নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম বাড়ায় গরিব, নিম্ন আয়ের মানুষসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনকে রীতিমত দুর্বিসহ করে তুলছে।
সাধারণ লোকজন বলেন, আমাদের বাঁচা বড় দায়। বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। কোনটা রেখে কোনটা কিনি বাঁচার তাগিদে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি।
বাংলাবাজার মুদি দোকানদার আল আমিন বলেন, প্রতিনিয়ত বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের দাম। মহাজন থেকে চড়ামূল্যে ক্রয় করে বিক্রি করতে হয় যা সাধারণ মানুষকে দুর্বিষহ করে তোলে।
দোয়ারাবাজারে কৃষি কর্মকর্তা এম এ খায়ের বলেন, উৎপাদনকারী ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। বেশ চড়া দামেই ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে। সিন্ডিকেট চক্র প্রবল সক্রিয় রয়েছে।সরকার উৎপাদনে সুষ্ঠু ব্যবস্থা পাশাপাশি সিন্ডিকেটর লাগাম টেনে ধরলে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে।
SH




