ছবি : নিজস্ব
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সামাজিক ন্যায় বিচারের কিংবদন্তী উপজেলা ব্যাকস ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি আলহাজ আবুল হোসেন আকল মিয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী রঞ্জন চন্দ্র পাল সহ জড়িত সকল আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে চুনারুঘাট স্বর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ।
সোমবার (২ অক্টোবর ) বিকেল ৫ টার দিকে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে চুনারুঘাট পৌর শহরের মধ্যে বাজার থানা সংলগ্ন এলকায় দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধনে অংশ নেয় কয়েক হাজার লোকজন। মানুষের ভিরে পৌর শহরের দু'পাশের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি আটককৃত রঞ্জন পালসহ জড়িতদের ফাঁসিসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। তাদের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, বিএনপি, ব্যবসায়ী সুন্নি জামাত, সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ সহ সকল শ্রেনি, পেশা ও দলে মানুষ আজ এক কাতারে।
সাধারন মানুষের স্বতস্পূর্ত উপস্থিতিতে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ লিয়াকত হাসান, চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দীন সামছু, উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি ও রানিগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা আলী মোহাম্মদ চৌধুরী, ব্যাকস সভাপতি মো: সালাম তালুকদার, সহ- সভাপতি ছিদ্দকুর রহমান মাসুদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু সজল দাশ, পৌর আওয়ামিলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোক্তাদির কৃষাণ চৌধুরী ,উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিল্লুল কাদির লস্কর রিমন,উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি এডভোকেট শহীদুল ইসলাম, উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কায়ুম তালুকদার, পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহমান, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সুহেল আরমান, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল, তাতীলীগের সভাপতি খন্দকার কবির যুবলীগ নেতা কাজল সহ কয়েক হাজার মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি কারাগারে রয়েছে । রঞ্জন পালের নেতৃত্বেই ব্যবসায়ী নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আবুল হোসেন আকল মিয়াকে হত্যা করে তার পরিবারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্য নিয়েই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মসজিদে যাওয়ার পথে এ হত্যাকা- ঘটায় সন্ত্রাসীরা। আমরা গ্রেফতারকৃত আসামির ফাঁসিসহ অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, নিহত আকল মিয়ার পুত্র এডভোকেট নাজমুল ইসলাম, সামছুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জহুর আলী সহ ছাত্র জনতা।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ০১ মার্চ ভোরে চুনারুঘাট শহরের বাল্লা রোড এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়া পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েগেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতর বড় ছেলে এডভোকেট নাজমুল ইসলাম বকুল ঘটনার পরদিন রঞ্জন চন্দ্র পালকে প্রধান আসামি করে ৪জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন । ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান আসামি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর মধ্যে মামলার ২নং আসামি চুনারুঘাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুতুব আলী হবিগঞ্জ কারাগারে মারা গেছেন। মামলার অন্যতম আসামি জসিম উদ্দিন ওরফে শামীমকে ঘটনার পরদিন ঢাকার তেজকুনিপাড়ার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরই মাঝে শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রধান করে।
নিহতর ছেলে নাজমুল ইসলাম বকুল জানান, আমার পিতা মৃত আলহাজ্ব মোঃ আবুল হোসেন (আকল মিয়া) চুনারুঘাট ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি ও চুনারুঘাট উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ চুনারুঘাট থানার একজন বিশিষ্ট মুরুব্বী হিসাবে বিভিন্ন সালিশ বিচারে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন। বাজারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মৃত চান মিয়া মহাজন তালুকদারের একটি ভুমি আসামি রঞ্জল পাল ও কুতুব আলী ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে মৃত চান মিয়া মহাজনের মেয়ে শিরিনের দখলে থাকা ভুমি থেকে উচ্ছেদ করে দখলে যাওয়ার চেষ্টা করে আসামীরা। ভুক্তভোগী শিরিন তখন বাজারের সভাপতির আকল মিয়ার শরণাপন্ন হলে আকল মিয়ার বলিষ্ঠ ভুমিকার কারনে রঞ্জন চন্দ্র পাল ও কুতুব আলী দখলে যেতে পারেনি। এরই জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পনা করে আকল মিয়াকে হত্যা করে বলে দাবী নিহতর ছেলে এডভোকেট নাজমুল ইসলাম বকুলের।
বকুল বলেন, ১ মার্চ ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে উঠে জামা কাপড় পরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাল্লা রোডস্থ স্থানীয় আল-মদিনা মসজিদে যাওয়ার পথে চুনারুঘাট বাল্লা রোডস্থ মতিন মহাজন এর ভাড়াটিয়া রঞ্জন পালের মেসার্স সততা ট্রেডার্স দোকানের সামনে পৌঁছা মাত্রই সম্পত্তির বিরোধের জেরে উল্লিখিত আসামী সহ অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দ্বারা তাহার মাথায় গুরুতর আঘাত ও জখম করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা টানা হেচড়া করে শহরের পার্শ্বে থাকা বিছমিল্লাহ ট্রেডারস সংলগ্ন চুনারুঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার গলির পথে আনুমানিক ৫৭ ফুট জায়গায় ফেলে তাহার মাথায় ও মুখম-লে উপর্যপুরি আঘাত করে চলে যায়। পরবর্তীতে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিগণ তাহাকে জথম প্রাপ্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকায় শোর চিৎকার দিলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুনারুঘাট পরে মুমূর্ষ অবস্থায় সিলেট নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান
এম সি




