প্রতিমা নির্মানে ব্যস্ত কারিগররা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে হবিগঞ্জের লাখাইয়ে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। ক'দিন বাদেই প্রতিমার গায়ে পড়বে রঙের আঁচড়।
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার অনেক পুরোনো মন্দিরের ভেতরে এখন শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় শতাধিক প্রতিমা। বাঁশ-কাঠ আর কাদা মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সনাতন ধর্মের লোকজন।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী (কারিগর) উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নের নিত্যানন্দ পাল। লাখাই ইউনিয়নের হরিমোহন পালের বাড়িতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন প্রতিমার দরদাম করছেন। কেউ অগ্রিম দিচ্ছেন।
দীর্ঘ দিন ধরে এই মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করে আসছেন নিত্যানন্দ পাল। তিনি বলেন,এ বছর মহালয়া পড়েছে ২৬ শ্রাবণ অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর। গত বছরের তুলনায় এ বার পুজো বেশ খানিকটা দেরিতে। পুজো শুরু হবে অক্টোবরের শেষ দিকে।
নিত্যানন্দ পাল বলেন, দুই মাস আগে থেকে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।
এখানে প্রতিমা কারিগর হিসেবে কাজ করছেন নিত্যানন্দ পাল, নিলেশ পাল, নির্ধন পাল, জুয়েল পাল, মনতোষ পাল, শংকর পাল, বিশ্ব পাল, মন্টু পাল, নিতাই পাল, যতীশ পাল, জগদীশ পাল, নিশু পালসহ প্রায় ১৪ জন শিল্পী। এই বাড়িতে ৮০/৮৫টি মুর্তি তৈরি করছে।
মুর্তিভেদে দামের তারতম্য রয়েছে। তবে গড়ে ৩০/৩২ হাজার টাকা করে বিক্রয় হয়। দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির জন্য মুর্তির দামও এবার বেশি।
লাখাই উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি প্রাণেশ গোস্বামী বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। আশা করি যথাসময়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে এবং আমরা সুন্দরভাবে পূজা উদযাপন করতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, এ বছর উপজেলার ৬৯ টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গা পূজা শুরু হবে আর বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে পুজা শেষ হবে ২৪ অক্টোবর।
ডি ডি




