ফাইল ছবি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার অধিকাংশ অলি-গলি এখন বেওয়ারিশ কুকুরের দখলে। দিন রাত সবসময়ই এসব সড়ক দিয়ে চলাচলকালে কুকুরের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।
কুকুরের ভয়ে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে শিশুরা। সবমিলিয়ে কুকুরের উপদ্রপে মানুষ অতিষ্ঠ হলেও এ নিয়ে কারও বিকার নেই। প্রায়ই কুকুরের কামড় খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন অনেকে।
সরজমিন দেখা যায় পৌর শহরে র মিলেনিয়াম মার্কেটের পিছনে মাদ্রাসার পয়েন্টে, পৌর পয়েন্টে বাজারের পয়েন্ট সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। কোথাও সড়কে শুয়ে আছে কুকুর, আবারও কোথাও দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একেকটা দলে ৫-৭টা কখনও আবার ৭-১০টা থাকে কুকুর। এতে করে ওই সব এলাকার পথচারীসহ সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে থাকেন। প্রতিদিনই কুকুরের কামড়ে মানুষ আহত হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
জগন্নাথপুর হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিচ্ছেন।
জগন্নাথপুর হাসপাতালে টিকা নিতে আসা রিজিয়া বেগম জানান, কুকুরের ভয়ে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায় না। তাছাড়া হাত ধরে রাস্তায়ও চলাচলে ভয় লাগে। অনেক সাবধানে চলাচলের পরেও কামড় দিচ্ছে। জলাতঙ্কের টিকা দিলেও তো ভয় লাগে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দিনের বেলা কুকুরকে এড়িয়ে চলে গেলেও রাতে কোনো পথচারীকে একা পেলে কুকুরের দল আক্রমণ করে। তাছাড়া অনেক এলাকায় কুকুরের কামড়ে ছাগলও মারা যাচ্ছে।
ইকড়ছই গ্রামের বাসিন্দা ডাক্তার ওয়ালী উল্লাহ ওলি জানান, কয়েকদিন ধরে দেখছি পাগলা কুকুরে এলাকার কয়েকজনের ছাগল মেরে ফেলছে। তাছাড়া মুরগিও ধরে খায়। কুকুরের অত্যাচারে হাঁস, মুরগি, ছাগল পালনও কঠিন হয়ে গেছে।
শ্রীধরপাশা এলাকার বেশ কয়েকজন জানান, গত মাসে তাদের এলাকায় বেশ কয়েক জনকে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। কুকুরের কারণে অনেকে রাতে বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পায়। অনেক স্থানে নারী ও শিশুরা কুকুরের ভয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, কিছুদিন ধরে দেখছি আমাদের অফিসে প্রতিদিন ৫/৭ টা ছাগল কুকুরের কামড় খেয়ে আসছে।
গত তিন বছর ধরে কুকুরকে দেওয়ার জন্য ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি এর জন্য আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না। আগামীতে উপজেলা মাসিক মিটিং এ এই বিষয়ে কথা বলবো।
ডিডি




