হাকালুকিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন : ন্যায্য দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫১ PM

হাকালুকিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন : ন্যায্য দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা

সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী

প্রকাশিত: ২৬/০৪/২০২৫ ১০:০০:১০ AM

হাকালুকিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন : ন্যায্য দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা

ছবি: নিজস্ব


মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার বিস্তৃত শস্যভান্ডার খ্যাত দেশের বৃহৎ হাকালুকি হাওরের পাশাপাশি পুরো উপজেলায় এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। হাকালুকি হাওর অঞ্চলে কৃষিপ্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে বোরো ধান কৃষকদের অন্যতম ভরসা। হাকালুকি হাওরপাড়ে বোরো ধান কাটায় এখন বেড়েছে কৃষকদের ব্যস্ততা। হাওর এলাকাজুড়ে এখন বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। 

হাকালুকি হাওরপাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় এবার বোরো ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। পাহাড়ি ঢল আসার আগেই হাওরের ধান ঘরে ওঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আরও এক সপ্তাহ সময় পেলে পুরো হাওরের ধান ঘরে তোলা যাবে। 

এদিকে, ধানের ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির মাধ্যমে বোরো ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষিবিদরা। 

হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাকালুকি হাওরের বুকে ধান আর ধান। যেদিকে দুই চোখ যায় শুধু পাকা ধানের সমাহার। মিষ্টি রোদের হালকা বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকদের সোনার ফসল। বিস্তীর্ণ মাঠের সোনালি ফসল কৃষকরা কাঁচি হাতে কাটতে শুরু করেছেন। তবে অকাল ঢলের ভয়ে কৃষকের মনে অজানা ভয় কাজ করছে। তাই কালবিলম্ব না করে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর শুকানো, সেই সাথে তা ঘরে ওঠাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। শ্রমিকদের পাশাপাশি কৃষকরা কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে অতি সহজেই ধান কাটছেন। 

হাওরপাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় পেলে হাওরের পুরো ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। ধান কাটা শুরু হলেও ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে সবাই চিন্তিত। রাত-দিন পরিশ্রম করে ধানের আবাদ করতে হয়। ধান লাগানোর পর নিয়মিত পরিচর্যাও করতে হয়। তেল-সারের দাম বৃদ্ধিতে গতবারের চেয়ে এ বছর খরচটা বেশি হয়েছে। ন্যায্য দাম না পেলে কৃষকদের বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই সরকারের কাছে বোরো ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার আহŸান জানিয়েছেন কৃষকরা। 

জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। অনুক‚ল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিচর্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে জমির ধান পাকতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৫০/৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে এবার প্রায় ছয় টন ধান উৎপাদিত হবে। 

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, বোরো ধান চাষে কৃষকদের সকল ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় ইতোমধ্যে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। উন্নত কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে কৃষকরা সহজেই ধান ঘরে তুলতে পারছেন। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলনের ফলে মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভালো হবে।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা