জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবিতে উ'ত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৪ PM

জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবিতে উ'ত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭/০৮/২০২৬ ০১:৪১:১৬ PM

জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবিতে উ'ত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া


সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রস্তাবিত পৌরসভা নিয়ে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবিতে সচেতন নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই পৌরসভা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ফেসবুকে ব্যাপক প্রচার শুরু হয়েছে। নিজেদের ছবি দিয়ে ‘প্রস্তাবিত জৈন্তাপুর পৌরসভা দ্রুত বাস্তবায়ন চাই’ লেখা ডিজিটাল ব্যানার প্রকাশ করছেন অনেকে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি সম্ভাব্য পৌর এলাকার বিভিন্ন ছবি ও ডিজিটাল পোস্টও ছড়িয়ে পড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব পোস্টে দেখা যায়, পৌরসভা বাস্তবায়নের পক্ষেই বেশি মানুষ নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীরাও দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন।

এর আগে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবি জানায় ‘সচেতন নাগরিক ফোরাম’। সংগঠনটির অভিযোগ, পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং সীমানা নির্ধারণে নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তারা পুনরায় নিরপেক্ষ সরেজমিন তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজা নিয়ে প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষি, মৎস্য, শ্রম ও দিনমজুরির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় পৌরসভা গঠনের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে জনসংখ্যা, জমির ব্যবহার ও সীমানা নির্ধারণের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির দাবি, ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবিতে মৌজাভিত্তিক লিখিত আবেদন এবং হাজার হাজার মানুষের গণস্বাক্ষরিত আপত্তিপত্র জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে।

তবে সংবাদ সম্মেলনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ‘জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়ন পরিষদ’সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও নাগরিকের পক্ষ থেকে দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবিতে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, পৌরসভা হলে জৈন্তাপুর সদর এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ আধুনিক নাগরিক সুবিধা বাড়বে।

সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসিম তার ফেসবুক পেজে প্রস্তাবিত পৌরসভা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান। তিনি গেজেটে সীমানা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল মালিক মানিকের বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আহমেদ যুবায়ের রিপন মালিকও পৌরসভা বাস্তবায়নের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেন, “নিজপাট তো আদিকালেই ছিল রাজধানী। আজ যদি পৌরসভায় রূপ পায় তবে ক্ষতি কোথায়?”

দৈনিক জৈন্তাবার্তা পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদও প্রস্তাবিত জৈন্তাপুর পৌরসভা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “প্রাচীন জৈন্তিয়া রাজ্যের রাজধানী, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ জৈন্তাপুর সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করা দীর্ঘদিনের গণদাবি।”

স্থানীয় এমপি তথা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি লিখেন, “গেজেটে সীমানা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পৌরসভা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।”

ফারুক আহমেদ আরও লিখেন, “পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘জৈন্তাপুরবাসীর প্রাণের দাবি—ঐতিহ্যের জৈন্তাপুর, আধুনিক পৌরসভা জৈন্তাপুর।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌরসভা বাস্তবায়নের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়া অনেকেই বলছেন, জৈন্তাপুর উপজেলা সদরকে আধুনিক ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপ দিতে পৌরসভা প্রয়োজন। তাদের মতে, পৌরসভা হলে নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত জৈন্তাপুর পৌরসভা নিয়ে এখন জৈন্তাপুরে দুই ধরনের মতামত সামনে এসেছে। এক পক্ষ পৌরসভা বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌরসভা দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষকে সক্রিয় প্রচারে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।

প্রস্তাবিত পৌরসভার সীমানা, স্থানীয় মানুষের মতামত, জনসংখ্যা, জমির ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় জৈন্তাপুরবাসী।

জৈন্তাবার্তা/আরআর