হারিকেন যাদের হাতে, তারা কি দেশপ্রেমিক না কি ক্ষমতালোভী?
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৪ PM

হারিকেন যাদের হাতে, তারা কি দেশপ্রেমিক না কি ক্ষমতালোভী?

মো. নিজাম উদ্দিন

প্রকাশিত: ১৭/০৮/২০২৬ ০২:০২:৫৬ PM

হারিকেন যাদের হাতে, তারা কি দেশপ্রেমিক না কি ক্ষমতালোভী?


যেকোনো সরকারের ছোট ছোট অনেক সাফল্যের মাঝে বড় একটা ভুল বা ব্যর্থতা দেশবাসীকে বিক্ষুব্ধ করবে। সরাসরি বিদ্যুৎ সুবিধা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সাথে দেশের প্রতিটি মানুষ, আলোকিত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ কি? সত্য বাস্তব সঠিক বিষয়গুলো সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই দেশবাসীকে ভালোভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না! কিন্তু কেন? এখনো মানুষ সত্যের পক্ষে থাকতে চায়। দেশবাসীকে আন্তরিকভাবে বোঝাতে হবে, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দ্রুত উত্তরণের উপায় বের করতে হবে। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে বিশ্বস্ততার সহিত। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সমগ্র দেশবাসী চরম অস্বস্তিতে। এর মধ্যে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্য অনভিপ্রেত, অযৌক্তিক, হাস্যকর। কোনোভাবেই একজন মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্য এমন হতে পারে না।

নিশ্চয়ই আগের সরকারের তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন অনেকটা কমে গেছে। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছিল। অনেক কোম্পানির মোট সম্পদ এক হাজার কোটি টাকা, কিন্তু তারা অতি সুকৌশলে ব্যাংক থেকে চার/পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এখন খেলাপি। অনেক পাওয়ার প্লান্ট ঋণ পরিশোধের চাপে অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। তারা তো ব্যাপক লাভে আছে। অন্যদিকে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী আওয়ামী এবং গুপ্ত প্রকৃতির কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে যারা আছে, তারা সুকৌশলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ গ্রাহকের কাছে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে ফুঁসিয়ে তুলছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। 

মানুষের মৌলিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদার মধ্যে অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার বিদ্যুৎ। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের  কারণে মানুষ যদি কষ্ট না পায়, তাহলে সরকার পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে বাকি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা খুব সহজ হয়ে যাবে। বলা যায় ৭০% চাপ কমে যাবে। বিরোধী দলের সরকারবিরোধী  আন্দোলনের তেমন সুযোগই থাকবে না।

সরকারকে ব্যর্থ করার ভয়ংকর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, চলবে! যারা বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাবিতে হারিকেন হাতে আন্দোলন করছে, তারা কি দেশপ্রেমিক না কি ক্ষমতালোভী? দুই-একজন মন্ত্রীকে অপসারণ করলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। সেই ব্যর্থ মন্ত্রীদের কারণে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-নেতাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। 

বিশ কোটি মানুষের দেশে শুধুমাত্র একজন প্রধানমন্ত্রী সৎ, মহৎ, মানবিক হলেই রাষ্ট্র সুন্দর হবে না। প্রথমত মহান জাতীয় সংসদের সকল এমপি-মন্ত্রীকে হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়পরায়ণ, শতভাগ দেশপ্রেমিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নীতি, চিন্তা, পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ওপর থাকতে হবে দৃঢ় অবিচল। তবেই বিশ কোটি মানুষকে আলোর পথে নিয়ে আসা সম্ভব। একজন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুধু ভালো হলে হবে না, বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীসহ ২০ কোটি মানুষকে হতে হবে তাঁর মতো কঠিন, কর্মঠ, অপরাধমুক্ত। তিনি তাঁর বাবার মতো করে শুরু করেছেন, তার চাইতেও ভালো কিছু করার দৃঢ় সংকল্প বার বার পূণর্ব্যক্ত করছেন। এটাই দেশবাসীর শান্তি, কল্যাণ ও রাজনীতির সৌন্দর্যের জন্য বড় একটা পরিবর্তন। 

জনাব তারেক রহমানকে যদি দেশের মানুষ আন্তরিকভাবে দোয়া ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমর্থন দেন, নিশ্চয়ই তিনি আমাদের জন্য সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। সম্মিলিতভাবে বেয়াদবদের সকল অপতৎপরতা রুখে দিতে হবে। তবেই আমরা পাবো জাতীয় সমৃদ্ধি, গৌরব করার মতো স্বাধীনতার অর্জন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ বীরদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার একটি বাংলাদেশ। 


লেখক: সাবেক চেয়ারম্যান, উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক, সুনামগঞ্জ ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি

জৈন্তাবার্তা/আরআর