ছবি:সংগৃহীত
প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিশুর জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। এই স্তরে শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে অভিভাবক তার সন্তানের বিষয়ে যত সচেতন, উনার সন্তান ততই ভালো সাড়া দেয়। যে অভিভাবক যতো উদাসীন উনার সন্তানের বিষয়ে, সন্তানও লেখাপড়াসহ সব কর্মকা-ে পিছিয়ে থাকে।
শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে অভিভাবকদের ভূমিকা।
একজন শিশুর প্রথম শিক্ষক তার মা-বাবা। বিদ্যালয়ে শিক্ষক যতই চেষ্টা করুন না কেন, অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া শিশুর পূর্ণ বিকাশ কখনও সম্ভব নয়।
অভিভাবকরা কীভাবে সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন?
প্রথমত, সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যালয়ে যা পড়ানো হয় তা বাড়িতে এসে অনুশীলন করছে কিনা অথবা ‘বাড়ির কাজ’ ঠিকমতো প্রস্তুত করছে কিনা তা অভিভাবকদের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।
তৃতীয়ত, বাড়িতে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়া সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং তাদের উৎসাহ দিতে হবে।
অভিভাবকদের অবহেলার ফলে কী সমস্যা দেখা দেয়?
যেসব অভিভাবক সন্তানদের খোঁজ খবর নেন না, তাদের সন্তানদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ কমে যায়। বাড়িতে যদি সন্তানদের হাতে অবাধে মোবাইল দেওয়া হয় তাহলে সন্তানরা মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া লেখাপড়ার সময় যদি মায়েরা বিভিন্ন চ্যানেলে সিরিয়াল, নাটক দেখতে বসে যান তাহলে সন্তানরাও লেখাপড়া বাদ দিয়ে মায়েদের সাথে টিভির সামনে বসে পড়বে। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় খারাপ সঙ্গেও জড়িয়ে যায়।
বর্তমানে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা কেমন?
আগের তুলনায় সচেতনতা অনেক বেড়েছে। এখন অনেক অভিভাবক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন, শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। তবে এখনও অনেক অভিভাবকই উদাসীন।
একজন আদর্শ অভিভাবকের কী গুণ থাকা উচিত?
ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও সন্তানের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা একজন আদর্শ অভিভাবকের প্রধান গুণ। সন্তানকে শুধু পড়াশোনার চাপ না দিয়ে নৈতিক শিক্ষাও দিতে হবে।
পরিশেষে আমি উপলব্ধি করি যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সফলতার পেছনে অভিভাবকদের ভূমিকা অবিসংবাদিত। বিদ্যালয় ও পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টাই একটি শিশুকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




