ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর তীরবর্তী চা-বাগান, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও খেলার মাঠ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চলতি বছর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের নবসৃষ্ট হাজিপুর বালুমহালের ইজারা পায় হাফিজ আব্দুল্লাহ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ। ইজারা শর্ত অনুযায়ী পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের লাটি, লাবু, কালিজুরি ও দক্ষিণ প্রতাপপুর মৌজা থেকে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, শর্ত না মেনে নির্ধারিত এলাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিম জাফলং, গোয়াইনঘাট সদর ও মধ্য জাফলং ইউনিয়নের উত্তর প্রতাপপুর, লুনি, আমবাড়ি ও দক্ষিণ প্রতাপপুর এলাকায় দিন-রাত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এতে শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের বসতঘর ও তিনটি ফুটবল মাঠও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতাপপুর ও পাঁচহাতিখেলের পিয়াইন নদীর অংশ আনন্দ খাল এলাকায় কয়েক মাস ধরে পেলোডার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। খালের তীর কেটে বালু তোলায় এলাকায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ওই এলাকায় জাফলং চা-বাগানের মালিকানাধীন তিনটি খেলার মাঠ, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি চক্র কখনও দিনে আবার কখনও রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের বেলায় টর্চলাইট ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে এবং দিনে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু তোলা হয়। উত্তোলিত বালু বাল্কহেড ও কার্গোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাঙন বাড়ছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ হয়নি। দক্ষিণ প্রতাপপুরের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন বুলবুল ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় হামলার অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এছাড়া বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও নদীর তীর ভাঙনের অভিযোগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনের কারণে জাফলং চা-বাগানের মালিকানাধীন লুনি ফুটবল মাঠ, দক্ষিণ প্রতাপপুরের আরও দুটি মাঠ এবং কয়েকটি বসতবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষায় এসব এলাকার আরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে খায়রুল আমিন বলেন, ‘বালু উত্তোলনে আমি জড়িত-এমনটি কেউ বলতে পারবে না। হাজিপুর বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে, তারা কীভাবে বালু উত্তোলন করছে তা তারাই জানে।’
মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাফিজ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমি লাটি, লাবু, কালিজুরি ও দক্ষিণ প্রতাপপুর মৌজা থেকে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করছি। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘বালু উত্তোলনে খায়রুলসহ কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি অভিযান চালানো হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মামলাও করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




