ছবি:সংগৃহীত
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর দাবি, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান
সিলেটে মামলার ভয় দেখিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার কথিত সোর্সের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) ননী গোপাল ও পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত কামালের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহেদ খান স্বপন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে সাগর খান।
লিখিত বক্তব্যে শাহেদ খান স্বপন দাবি করেন, তার বাবা মরহুম তৈমুর খান দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ইউনিয়নের দুই বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এ কারণে একটি মহল তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, তার ছেলে সাগর খানকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় লাউয়াই এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে তাওহিদ আহমেদ দক্ষিণ সুরমা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই ননী গোপাল।
শাহেদ খান স্বপনের অভিযোগ, এরপর পুলিশের সোর্স কামাল তাকে ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে এসআই ননী গোপালের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। টাকা না দিলে তার ছেলেকে মোটরসাইকেল চুরি মামলায় আসামি করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।
তিনি জানান, গত ২১ জুন রাত ৮টার দিকে কামাল তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে বলেন, লাউয়াই এলাকার তাওহিদের মোটরসাইকেল নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চুরি হয়েছে। হয়রানি থেকে বাঁচতে হলে এক লাখ টাকা নিয়ে এসআই ননী গোপালের সঙ্গে দেখা করতে হবে।
শাহেদ খান আরও বলেন, পরে এসআই ননী গোপালের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তাকে দেখা করতে বলা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে চন্ডিপুল এলাকায় গিয়ে দেখা করলে এসআই ননী গোপাল তাকে জিজ্ঞেস করেন, “সোর্স কামাল টাকার ব্যাপারে আপনাকে কিছু বলেনি?” এরপর তাকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য চাপ দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় তার ছেলেকে চোর ও ছিনতাইকারী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি দাবি করেন, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় যে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে সেখানে কালো নয়, লাল রঙের মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শাহেদ খান স্বপন আরও বলেন, তার ছেলে অভিযুক্ত হওয়ার আগেই অনলাইনে সংবাদ প্রচার করে এবং এলাকায় বিভিন্নভাবে বিষয়টি ছড়িয়ে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। পরে তারা থানায় অভিযোগ দিলে এসআই ননী গোপাল বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেরাই মোটরসাইকেলটি হেফাজতে রেখে চুরির নাটক সাজিয়েছে। পরে তারাই আবার মোটরসাইকেল পুলিশের কাছে নিয়ে আসে। এতে ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
শাহেদ খান স্বপন বলেন, তিনি এ ঘটনায় এসআই ননী গোপাল ও সোর্স কামালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সামাজিক ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা কঠিন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই ননী গোপাল বা দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




