কাদা ও উঁচু ঘাসে বেহাল শাবির সেন্ট্রাল ফিল্ড,বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় করেন পরিচালক সউদ বিন আম্বিয়া?
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ AM

কাদা ও উঁচু ঘাসে বেহাল শাবির সেন্ট্রাল ফিল্ড,বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় করেন পরিচালক সউদ বিন আম্বিয়া?

ইমরান হোসেন রানা, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯/০৬/২০২৬ ০৫:৪৭:২২ PM

কাদা ও উঁচু ঘাসে বেহাল শাবির সেন্ট্রাল ফিল্ড,বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় করেন পরিচালক সউদ বিন আম্বিয়া?

নিজস্ব


অনুশীলন ছাড়া মানুষ অর্জিত জ্ঞানও একসময় হারিয়ে ফেলে। খেলাধুলার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়, নিয়মিত অনুশীলনই একজন খেলোয়াড়ের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার মূল ভিত্তি। অথচ সেই ন্যূনতম অনুশীলনের সুযোগ ছাড়াই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ও অন্তর্বিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি বছরের একটি বড় সময় ব্যবহার অনুপযোগী থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে যায়। টানা বৃষ্টির ফলে মাঠের কিছু অংশ হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়, আবার কোথাও জন্মায় লম্বা ঘাস। ফলে খেলাধুলা তো দূরের কথা, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে মাঠের নিয়মিত সংস্কার ও পরিচর্যা করা হলে বর্ষাকালে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। নিয়মিত ঘাস কাটা, নিচু জায়গায় মাটি ভরাট এবং সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠটিকে সারা বছর খেলার উপযোগী রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি মানসম্মত খেলার মাঠ শুধু খেলাধুলার জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মাঠ অবহেলার শিকার।গ শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো নানা উন্নয়নমূলক কাজ করলেও সেন্ট্রাল ফিল্ডের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। ফলে সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু শাবিপ্রবির অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে পারছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান রহমান বলেন, “শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রগুলোর অন্যতম হলো সেন্ট্রাল ফিল্ড। অথচ এটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমাদের খেলোয়াড়দের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও একটি ভালো মানের মাঠের অভাবে তারা নিজেদের প্রতিভার জানান দিতে পারছে না। কিছুদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দল নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সম্প্রতি নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা আশা করি, তিনি শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।”

তিনি আরও বলেন, “সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভূমি উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সেন্ট্রাল ফিল্ডকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব। খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একাডেমিক উৎকর্ষতায় নয়, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেও সমৃদ্ধ হয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপি বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াজের হোসেন খুশবু বলেন, “নামমাত্র দু-একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন বা কিছু ক্রীড়াসামগ্রী কিনে পুরো বাজেট শেষ হয়ে যেতে পারে না। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই বরাদ্দের প্রতিটি টাকার পাই-পাই হিসাব এবং দৃশ্যমান উন্নয়ন চাই। শারীরিক শিক্ষা দপ্তর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেয়, সরকারি ফান্ড পায়, কিন্তু বিনিময়ে দেয় শুধু অবহেলা।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের অধিনায়ক ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাকিল হোসেন বলেন, “একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত খেলার মাঠ কোনো বিলাসিতা নয়। এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু বছরের একটি বড় সময়, বিশেষ করে বর্ষাকালে, সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে যায়। এতে খেলাধুলা তো দূরের কথা, স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হয়।”

তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, প্রতিবছর মাঠ সংস্কারের জন্য বাজেট বরাদ্দ হলেও স্থায়ী সমাধান দেখা যায় না। নামমাত্র সংস্কার করে দায়িত্ব শেষ করা হয়, ফলে পরের বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। একইভাবে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্যও বাজেট থাকলেও নানা অজুহাতে তা বাস্তবায়ন হয় না।”

এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক চৌধরী সউদ বিন আম্বিয়া বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ রাখছি। মাঠে কাদা সমস্যার সমাধানে দুই ফুট মাটি ভরাটের জন্য প্রকৌশল দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের হাতে ২৫ হাজার টাকাও খরচ করার এখতিয়ার নেই। লক্ষ লক্ষ টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়া সম্ভব নয়।”

শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের অধীন ব্যায়ামাগার, খেলার মাঠসহ সার্বিক উন্নয়ন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় হয়ে থাকে। এ বিষয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শারীরিক শিক্ষা দপ্তর কত বরাদ্দ পেয়েছে এবং মূল বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জয়নাল ইসলাম চৌধরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জুন মাসটা যাক, এখন অনেক ব্যস্ততা।”

একটি ছোট তথ্য প্রকাশে এত সময়ক্ষেপণ কেন? প্রধান প্রকৌশলীর এই ব্যস্ততার আড়ালে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের বরাদ্দ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, সেটিও এখন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

অন্যদিকে চৌধুরী সউদ বিন আম্বিয়াকে বরাদ্দ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা করা হলে ভলিবল টুর্নামেন্টের আজকের পর্বের কথা বলে তড়িঘড়ি করে চলে যান।সংশ্লিষ্টদের এরকম উদ্ভট আচরণে বাজেট-বরাদ্দে অনিয়মের কি ইঙ্গিত?

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেন্ট্রাল ফিল্ড সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাদের মতে, একটি আধুনিক, ব্যবহারযোগ্য এবং সারা বছর খেলার উপযোগী মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের জন্যই সময়ের দাবি।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

বার বার ডা*কাতির ঘটনায় আতঙ্কে কুলাউড়া-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের যাত্রীরা
ভবিষ্যতের সিলেট গড়তে শুরু হলো মহাপরিকল্পনার কাজ
হবিগঞ্জ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ৫৫ ব্যাটালিয়ন
আজমিরীগঞ্জে রিং জালে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য
হামের উপসর্গে সিলেটে আরও এক শিশুর মৃ'ত্যু
সিলেটে ঝোড়ো হাওয়া ও ব'জ্রবৃষ্টির আভাস
বড়লেখায় নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর গাড়িবহর ঠেকানোর চেষ্টা বিএনপির
বিমানবন্দর প্রকল্পে জমি হা*রানোদের কান্না, ন্যায্য পাওনার দাবিতে আ*ন্দোলনের হুঁ*শিয়ারি
বড়লেখা সীমান্তে অ*বৈধ ভা*রতীয় সিগারেট জ*ব্দ
শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘ*র্ষে দুই তরুণ নি*হত, আ*হত একজন