ভারি বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৮ AM

ভারি বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আকিকুর রহমান রুমন, বানিয়াচং প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/১০/২০২৩ ১২:৩২:৫৯ PM

ভারি বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

বানিয়াচংয়ে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসল


হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ভারি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকদের আমন ধান ও সবজির জমি। এতে নষ্ট হয়ে গেছে কোটি টাকার মতো ফসল।

 সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলায় বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা জুড়ে চাষ করা হয়েছে সোনলী আমন ধান ও বিভিন্ন প্রজাতির শাক সবজির। কৃষকের স্বপ্নের সেই ফসল আমন ধান ভারি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে। ভারি বৃষ্টি হওয়ার কারনে, এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে আমন ক্ষেতের পানি  নামছে না। ফলে ২/৩ দিন ধরে পানিতে ডুবে আছে ধানের চারা,,ভুট্টা লসহ নানান জাতের শাক-সবজির গাছ। 

দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকলে গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। উপজেলার অধিকাংশ আমন ক্ষেত এখন পর্যন্ত পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।

কৃষক আব্দল মান্নান বলেন, শুধু আমার আমন জমি নয়, পুরো এলাকার সবার জমি আজ ৩ দিন ধরে ডুবে আছে। এরই মধ্যে আমন ধান গাছ পচে নষ্ট হচ্ছে। 

তিনি বলেন, একর প্রতি জমিতে প্রতিবছর ১৪/১৫ মণ করে ধান পাই। আমন চাষে সেচ খরচ নেই। তাই ফলন কম হলেও বেশ লাভ হয়। তবে এবার উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা বাড়িতে চিড়া মুড়ি খাওয়ার মতোও ধান আসবে না।

কৃষক আনোয়ার মিয়া খুব আক্ষেপ করে বলেন, আমার আট একর আমন ধানি জমির সবগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এখন নতুন করে রোপন করার আর কোনো সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, বপানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তাই নদীতে পানি নামছে খুবই ধীর গতিতে। ফলে আমন ধানগাছ পচে নষ্ট হচ্ছে।

 কৃষক সাদিকুর রহমান বলেন, তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে ধান চাষ করেছিলাম।কিন্তু দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে একেবারেই তলিয়ে গেছে তার সবকিছু।

সাথে সাথে স্বপ্নটুকুও তার নিমিষেই বিলীন হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, বানিয়াচং উপজেলার প্রায় এক হাজার ৭০ হেক্টর জমির আমন  ও পঞ্চাশ হেক্টর সবজি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নষ্ট হওয়া ক্ষেতে নতুন করে আমন রোপণ করার সুযোগ নেই। তাই এসব জমিতে আগাম ভুট্টাসহ সবজি চাষাবাদের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগে সচিব মহোদয়ের সেমিনারে বানিয়াচং উপজেলার কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য পুর্ণবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি এবং যে সব এলাকায় পানি নিষ্কাশনের অভাবে ক্ষেত ডুবে আছে সেই সব এলাকায় কৃষি অফিসারদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


ডি ডি