ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত। মঙ্গলবার দিনভর চলা পাল্টাপাল্টি হামলায় মোসাদ সদরদপ্তরে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’। একইসাথে ইসরায়েল তেহরানে আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বাংলাদেশের তেহরান দূতাবাসও পড়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে।
বিবিসি জানায় ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স একটি সফল অভিযানে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর সদরদপ্তরে আঘাত হেনেছে। তাদের প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি ভবনে আগুন জ্বলছে।
তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। ইসরায়েলের আইনি বিধিনিষেধ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তেহরানের আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলের চালানো হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, ঘরবাড়িতে ইসরায়েল নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ শহরের ফারাবি হাসপাতালেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হাসপাতালের মতো মানবিক স্থাপনাতেও সরাসরি হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।’
তেহরানে বাংলাদেশের চ্যান্সারি কমপ্লেক্স (দূতাবাস ভবন) এক কিলোমিটারের মধ্যেই ইরানের পরমাণু স্থাপনা অবস্থিত, যা ইসরায়েলি হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু। ফলে বাংলাদেশি কূটনীতিক, কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকিতে রয়েছে।
তেহরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দূতাবাস ইতোমধ্যে একটি ‘হটলাইন’ চালু করেছে। একইসাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগ প্রতিহত করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তেলআভিভের উত্তরের অংশে বিস্ফোরিত হয়, যেখানে দমকল কর্মীরা উদ্ধার কাজে নিয়োজিত আছেন।
ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র ধ্বংস করেছে তারা। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনেও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য সম্প্রচার বন্ধ ছিল। তারা জানায়, ভবনটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ইরান সংঘাত নিরসনে আলোচনায় বসতে চায় বলে জানান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও মধ্যস্থতায় আগ্রহ দেখিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েল বিজয় অর্জনের পথে রয়েছে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানিদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একইসাথে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইসরায়েলের হামলার নিন্দা করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরণের উত্তেজনা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ ইসরায়েলিরা ‘আয়রন ডোম’-এর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আগের মতো আস্থা রাখতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মহলে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে, বিশেষত মানবিক বিপর্যয় ও পরমাণু স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




