ছবি : সংগৃহীত
ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইরানকে ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের শঙ্কা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকেই। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনা কৌশলগত পারমাণবিক বোমা দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে।
যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বুধবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনাটি পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত হওয়ায় তা ধ্বংস করতে প্রচলিত বাংকার-বাস্টার বোমা যথেষ্ট নয়—এমন আশঙ্কা রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর।
অন্তত দুজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যে, শুধু একটি কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র দিয়েই লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে পৌঁছানো সম্ভব।
তবে এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসন চাইলেও ট্রাম্প ব্যক্তিগত ভাবে পরমাণু বোমা ব্যবহার করতে চাইছেন না।
এদিকে ফক্স নিউজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশ হিসেবে ইরানের আকৃতি টেক্সাসের থেকেও তিনগুণ। পাহাড় ঘেরা এই দেশটিতে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের।
কিন্তু ইরানের পরমাণু প্রকল্প ধ্বংস করতে সব বিকল্পই বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। এমনকি সেটা কৌশলগত পরমাণু বোমাও।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউজ প্রতিনিধি জ্যাকি হেইনরিখ জানান, হোয়াইট হাউজের এক শীর্ষ কর্মকর্তা তাকে নিশ্চিত করেছেন- “গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ অসত্য এবং মার্কিন সেনাবাহিনী পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যে প্রচলিত বাংকার বোমা দিয়েই ফোর্দোর মতো লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।”
এই বিবৃতিগুলোর মধ্যে স্পষ্ট সাংঘর্ষিকতা থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বোমা হামলার প্রেক্ষিতে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যেই এমন খবর মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
নয় কোটির বেশি জনসংখ্যার একটি দেশে পারমাণবিক হামলার মতো ‘ঘৃণ্য উসকানি’ কেবল অসংখ্য নিরীহ মানুষের মৃত্যু ডেকে আনবে না বরং গোটা অঞ্চল কয়েক দশকের জন্য রেডিওঅ্যাকটিভ (তেজস্ক্রীয়) বিষে আক্রান্ত হয়ে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতও আরও জটিল হয়ে উঠবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার সময় একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—তিনি ‘এন্ডলেস ওয়্যার’ অর্থাৎ অনন্তকাল ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করবেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন। অথচ সাম্প্রতিক নীতিগুলো সেই প্রতিশ্রুতির ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




