আজমিরীগঞ্জে দুর্গাপূজার চাঁদা না দেয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে লাঞ্ছিত
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ AM

আজমিরীগঞ্জে দুর্গাপূজার চাঁদা না দেয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে লাঞ্ছিত

আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/১০/২০২৩ ০৯:৪৪:৫৭ AM

আজমিরীগঞ্জে দুর্গাপূজার চাঁদা না দেয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে লাঞ্ছিত

ছবি: সংগৃহীত


আজমিরীগঞ্জে আসন্ন ২০ অক্টোবর শারদীয় দূর্গাপূজার চাঁদা না দেয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবলীগ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বাবলু রায়ের হাতে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মঞ্জু কান্তি রায়কে লাঞ্ছিত করার  অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার ( ১৩অক্টোবর ) সকাল ১১টার দিকে আজমিরীগঞ্জ পৌর  এলাকার মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন চরবাজারে উপজেলা আঃ লীগের সহ-সভাপতি মঞ্জু কান্তি রায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্যারের দোকানে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সুত্রে জানাযায়,  গত ১২অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলা যুবলীগ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বাবলু রায়ের নেতৃত্বে তার নিজ গ্রাম বিরাটের পূজা মন্ডপের জন্য এলাকার ২০-৩০জন সদস্য পূজা উদযাপনের জন্য চাঁদা তুলতে বাজারের স্যার ব্যবসায়ী মঞ্জু কান্তি রায়ের দোকানে যান। এসময় মঞ্জু কান্তি রায় চাঁদা পরে দিবেন বলে জানালে এনিয়ে তাদের মধ্যে বাক বিতন্ডা বাঁধে। পরে ১৩অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টায় বাবলু রায় তার লোকজনকে নিয়ে পুনরায় মঞ্জু কান্তি রায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান এবং পুনরায় তাদের মধ্যে বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে মঞ্জু কান্তি রায়কে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটলে চরবাজারে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

এবিষয়ে কথা বললে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মঞ্জু কান্তি রায় জানান, বৃহস্পতিবার বাবলু রায়ের নেতৃত্ব পূজার চাঁদার তুলার জন্য ৩০-৪০ জন সদস্য আমার দোকানে আসেন। এসময় দোকানে কর্মচারী না থাকায় এবং আমার শরীর ক্লান্ত থাকায় তাদের চাঁদা পরে দিব বললে বাকবিতন্ডা বাঁধায়। শুক্রবার বাবলু ও অসীম রায় ৩০-৪০ জন সদস্য নিয়ে আমার দোকানে এসে আমার উপর হামলা, গালমন্দ ও আমাকে লাঞ্ছিত করেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। থানা এবং আদালতের মাধ্যমে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিব।

এদিকে বাবলু রায়কে ফোন করলে তিনি বলেন, পূজার চাঁদা হচ্ছে সেনসিটিভ বিষয়। তার ভালো লাগলে দিবে না লাগলে না দিবে। মঞ্জু আমার দুই বুড়া(বৃদ্ধ) লোক পূজার কার্ড দেয়ায় কার্ড ফেলে দিছে এবং তাদের ঘাড় ধরে বের করে দিছে।পরের দিন আমি জিজ্ঞাসার জন্য গেছি। গালাগাল ও লাঞ্ছিত করার প্রশ্নে  এটা অন্য বিষয় বলে ফোন কেটে দেন।

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ডালিম আহমেদ জানান, একপক্ষ সবসময় চাঁদা উঠায় তারা চাঁদার জন্য গেছে পরে বাকবিতন্ডা হয়েছে। বিষয়টি জিজ্ঞাসার জন্য চাঁদা তুলার পক্ষের লোকজন মঞ্জু রায়কে জিজ্ঞাসার জন্য গেছে।এখন জিজ্ঞাসার বিষয়টি হয়ত সুন্দর হইছে বা একটু কঠিন হইছে এনিয়ে দু'পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডা হইছে। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়েছি। একটি পক্ষ(মঞ্জু কান্তি রায়) লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। যেহেতু উভয়ই একি ধর্মের মানুষ তাছাড়া ধর্মীয় উৎসব নিয়ে কথার কাটাকাটি সেহেতু আমরা সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।

এম সি