হবিগঞ্জ শহরে টমটম ও মিশুকের অবাধ চলাচলে তীব্র যানজট
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ AM

হবিগঞ্জ শহরে টমটম ও মিশুকের অবাধ চলাচলে তীব্র যানজট

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/১০/২০২৩ ১২:০৯:১৩ PM

হবিগঞ্জ শহরে টমটম ও মিশুকের অবাধ চলাচলে তীব্র যানজট

ছবি : নিজস্ব


হবিগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে টমটম (ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক) ও মিশুকের অবাধ চলাচলের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থী ও অফিসগামীরা। দুর্ভোগ কমাতে টমটম ও মিশুকের সংখ্যা এবং চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

জানা গেছে, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় যানজট এড়াতে প্রায় ১ হাজার ২০০ টমটমকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়। এসব টমটমে নম্বর প্লেট দেওয়া হয়। কিন্তু শহরে বর্তমানে টমটম চলছে দ্বিগুণেরও বেশি। যে কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে পৌরবাসীকে। এর মধ্যে যানজটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় শহরের চৌধুরীবাজার এলাকায়।

সরেজমিন দেখা যায়, শহরের চৌধুরীবাজার থেকে নতুন বাসস্ট্যান্ড, থানার মোড় থেকে ধূলিয়াখাল ও হবিগঞ্জ সরকারি কলেজ রোড থেকে ঘাটিয়ার বাজার পর্যন্ত সড়কে দিনরাত হাজারো টমটম চলাচল করছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভা থেকে কিছু টমটমের নিবন্ধন দেওয়া হলেও শহরে চলাচলকারী অধিকাংশ টমটমের নিবন্ধন নেই।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এমনিতেই শহরে চলাচলকারী বেশির ভাগ টমটম অবৈধ। এরপর আবার চালকদের অনেকেই কিশোর ও অদক্ষ চালক। যে কারণে যানজটের পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনাও।

আল আমিন নামে এক যুবক জানান, হবিগঞ্জ শহর এখন টমটমের নগরী। রাস্তাঘাট ও পাড়া-মহল্লার ভেতরেও এখন শুধু টমটম আর টমটম। মাত্রাতিরিক্ত টমটমই যানজটের সৃষ্টি করছে।

শহরের বাসিন্দা তাওহিদ মিয়া জানান, একদিকে মাত্রাতিরিক্ত টমটম, অন্যদিকে অদক্ষ কিশোর চালক রয়েছে। যে কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটছে। জনসাধারণের কথা চিন্তা নিয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগকে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

শহরে যানজটের বিষয়ে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের চৌধুরীবাজার থেকে আদালতের উদ্দেশে টমটমে ওঠেন। কিন্তু প্রায় দিনই টমটমে ওঠার পর যানজটে শুধু চৌধুরীবাজার পার হতেই ৪৫ মিনিট সময় বসে থাকতে হয়। তিনি জানান, যানজট না হলে চৌধুরীবাজার থেকে টমটমযোগে আদালতে যেতে ৭ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম বলেন, অবৈধ টমটম চলাচলের বিরুদ্ধে পৌরসভা ও ট্রাফিক পুলিশ মিলে কাজ করে যাচ্ছে। শহরকে যানজটমুক্ত রাখার জন্য শহরের চৌধুরীবাজারের উমদা মিয়া সেতুকে ওয়ানওয়ে করা হয়েছে। মেয়র বলেন, শহরকে যানজটমুক্ত করতে যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন সবই নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে ট্রাফিক সদস্যরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অবৈধ যানবাহন পেলেই আটক করে জরিমানা করা হচ্ছে।

এম সি