ছবি : নিজস্ব
প্রতিবছরই বাড়ছে টাঙ্গুয়ার হওরে পর্যটক। সেই সাথে দূষণও হচ্ছে হাওরের পরিবেশ। টাঙ্গুয়ার হওরের তীরে অবস্থিত ভারতের সীমান্তঘেষা টেকেরঘাট এলাকার নিলাদ্রী লেকে নৌকায় রাত্রীযাপন করা পর্যটক ও নৌ শ্রমীকরা পানির বোতল, চিপস-বিস্কুটের প্যাকেট, পলিথিনসহ প্লাস্টিক বর্জ্য ছুড়ে হাওরের প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ক্ষতি করছেন।
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী), বারেকটিলা, জাদুকাটা নদী আর শিমুলবাগান ভ্রমণের স্থান হিসেবে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। হাওরের পরিবেশ রক্ষায় পর্যটক ও এলাকাবাসীর উদ্দেশে গত ২ আগস্ট ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এতেও পর্যটক ও নৌকার কর্মীদের মধ্যে কোন ধরনের সচেতনতার দেখা মিলছে না। হাওরের পানিতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি।
পর্যটকবাহী শতশত হাউসবোট জেলার সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে আসা পর্যটকদের নিয়ে হাওর ভ্রমনে যায় বিলাসবহুল হাউসবোটগুলো। তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে উপজেলার টেকেরঘাট এলাকায় রাত্রীযাপন করে শতশত হাউসবোট। রাত্রীযাপন করার সুবাধে সেখানেই নৌকায় থাকা বর্জ্য্র ফেলা হচ্ছে টেকেরঘাট এলাকার শ্রীপুর হাওরে। এতে করে টেকেরঘাট এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হচ্ছে। 
স্থানীয়রা দুর্ঘন্ধের জন্য এলাকায় চলাচল করা দুস্কর হয়ে পরেছে বলে জানিয়েছেন। পানি শুকিয়ে গেলে শ্রীপুর হাওরের এই জমিগুলোতেই ফসল চাষ করেন কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, এসব বর্জ্য পানিতে না পচে দীর্ঘদিন পর্যন্ত অক্ষত থাকে। এর ফলে শুকনা মৌসুমে ফসল আবাদ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তাঁরা।
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বাছিত বলেন, পানি শুকিয়ে গেলে এই হাওরে আমরা চাষাবাদ করি। কিন্তু গত তিন-চার বছর ধইরা চাষাবাদ করতে গিয়ে খুব সমস্যায় পরতে হয়। চাষাবাদের সময় কাচের বোতল থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের বোতল পর্যন্ত পাওয়া যায়। হাতেগুনা কয়েকটি নৌকা ছাড়া বাকিগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো ডাস্টবিনেরও দেখা মেলেনি। ঘাটে থাকা নৌকাগুলোর আশপাশেই পানিতে ভাসছিল পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, পানির খালি বোতল। এতে করে এলাকার সুন্দর্যর পাশাপাশি হাওরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে জানালেন সচেতন পর্যটকরা।
তাহিরপুর উপজেলা রতনশ্রী গ্রামের মুরাদ আহমদ বলেন, ছোট বড় সব নৌকাতই ডাস্টবিন আছে। তারপরও তারা টেকেরঘাট আইসা সব ময়লা পানিতে ফালায়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থাইকা পর্যটক আসে এই জায়গায়। এমন পরিবেশ দেখলে অনেক পর্যটক আর আইতো না আর আমরার এলাকাও নষ্ট হইতাছে।
নৌকায় ডাস্টবিন আছে তারপরও কেনো পানিতে বর্জ্র ফেলা হচ্ছে কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে নৌ শ্রমীক করম আলী বলেন, আমাদের নৌকায় বড় ডাস্টবিন আছে। আমরা সবসময় সব পর্যটকদের বলি যাতে ডাস্টবিন ব্যবহার করে। তিনি বলেন এতো বড় হাওর এলাকা বলার পরেও অনেকে হঠাৎ করেই পানির বোতল বা চিপসের প্যাকেট পানিতে ফেলে দেন।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক জুলহাস উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জের প্রকৃতি অনেক সুন্দর। কিন্তু হাওরে যেভাবে প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে তাতে করে কিছুদিন পরে হাওরের পরিবেশ আর রক্ষা করা যাবে না।
প্রশাসনকে কঠোর ভুমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি। বিলাসবহুল নৌকাগুলোতে ডাস্টবিন থাকা সত্বেও টেকেরঘাট এলাকায় ময়লার স্থুপ করা হচ্ছে। এতে করে তীব্র গরমে বায়ু দুষণ হয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন পরিবেশবীদরা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সদস্য এন্ড্রো সলোমার বলেন, প্রতি বছর যেভাবে হাওর দুষন হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আর বেশিদিন হাওরের বৈষম্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না। প্রশাসন থেকে যে নীতিমালা করা হয়েছে তার প্রয়োগ শতভাগ করা দরকার।
তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানালেন, ইতিমধ্যেই একটি নীতিমালা করা হয়েছে হাওরে কোন ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না। যদি নীতিমালা অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এম সি




