সংবাদ প্রকাশের পর দখল মুক্ত হলো সেই ফসল রক্ষা পান্ডারখাল বাঁধ
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৮:৫৯ AM

সংবাদ প্রকাশের পর দখল মুক্ত হলো সেই ফসল রক্ষা পান্ডারখাল বাঁধ

মামুন মুন্সি, দোয়ারাবাজার

প্রকাশিত: ১৮/১০/২০২৩ ০৯:১১:৩৪ AM

 সংবাদ প্রকাশের পর দখল মুক্ত হলো সেই ফসল রক্ষা পান্ডারখাল বাঁধ

ছবি : নিজস্ব


অবশেষে দখলমুক্ত হয়েছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ফসলরক্ষা ও আগাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ পান্ডার খাল বাঁধ। দৈনিক জৈন্তা বার্তাস একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের  নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার(১৭ অক্টোবর) পান্ডার বাঁধ থেকে অবৈধ দখলদারদের বালু পাথর ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এ সময় ৩হাজার ঘনফুট বালু জব্ধ করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বানী চৌধুরী । এ সময় থানার এস আই এনামুল হক মিঠু তাকে সহায়তা করে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর থেকে প্রভাব খাটিয়ে, আইনের তুয়াক্কা না করে আপন মনে অবৈধ ব্যাবসা করে আসছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যাক্তি। ধ্বংশ হচ্ছে প্রাকৃতিক লীলাভূমি  পান্ডারখালের দর্শনীয় স্থান।

প্রায় ৫০ বছরের পুড়নো বাঁধটি টেকসই রাখান জন্য লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছ,সেখানে ইট বালু পাথরের স্তুপ করার ফলে মরে যাচ্ছে সেখানকার গাছ-পালা,শুধু  তাই নয় বাঁধের দুই পাশ ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মানুষের।

১৯৭৪-সালে ফসল রক্ষায় তৈরি করা হয় বাঁধটি,বাঁধের উপর দিয়ে তৈরি করা হয়  ছাতক-সুনামগঞ্জের সড়ক,প্রতিদিন যাতায়াত করে লক্ষাধিক মানুষ কিন্তু বাঁধের চার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে ইট বালু পাথর যার ফলে বর্ষার মৌসুম আসলে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমনি বাঁধ মজবুত রাখতে যে গাছ গুলো রোপন করা হয়েছিল সেগুলো মরার পথে।শুধু  তাই নয় সরকারি অর্থায়নে তৈরি করা হয়েছিল  বসার ছাউনি, সেগুলো এখন আর চোখে পরে না।

ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি, সড়কের দুই পাশ অবৈধভাবে দখল করে ইট বালুর ও পাথরের ব্যবসা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে করে যেমন পরিবেশদূষণ হচ্ছে তেমনি দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা। একদিকে ট্রাকে করে বালু নিয়ে যায়,বাতাসের সঙ্গে বালু উড়ে চোখে-মুখে চলে আসে। এতে  মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে। অন্যদিকে সড়কের পাশে যত্রতত্র ইট বালু রাখায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। গাছতলা দখল করে স্তুপ করা হয়েছে ইট বালু পাথরের।

ব্যস্ত সড়ক ও বাঁধের পাশে বালুর ব্যবসা করার অনুমতি না থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যে চলছে এ ব্যবসা। এতে করে পথচারীদের চলাচলে অসুবিধাসহ অনেক সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এ নিয়ে গত ১০ অক্টোবর দৈনিক জৈন্তা বার্তা পত্রিকায়  সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।উচ্ছেদ অভিযান নেতৃত্বদানকারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন,ফসলরক্ষা পান্ডারখাল বাঁধের দুই পাশে বালু পাথর ইট রেখে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল তাদেরকে উচ্ছেদের সময় দিয়েছিলাম অনেকেই মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন অনেকে নেয়নি তাদের বালু জব্ধ করা হয়েছে সরকারি ভাবে নিলাম দেওয়া হবে।আর কখনো বালু পাথর ইট রাখতে নিষেধ করা হয়েছে যদি কেউ রাখে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম সি