দিরাই-মদনপুর সড়ক
সুনামগঞ্জের দিরাই, শাল্লা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী আরো দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম দিরাই-মনদপুর সড়ক।
এই সড়ক দিয়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, লেগুনাসহ ছোট যানবাহন করে। ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কের ঘেঁষে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুর। এরমধ্যে দিরাই পৌরসদরের বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাদিরপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে রয়েছে অন্তত ৩০টি ছোটবড় পুকুর। পুকুরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হয়।
এসব পুকুরের তিনপাশে নিজস্ব পাড় থাকলেও কোনো পুকুরেই সড়কের পাশে পাড় নেই। ব্যস্ততম সড়ককে পাড় হিসেবে ব্যবহার করছেন পুকুর মালিকরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় সড়কের পাশের সওজের ৮-১০ ফুট জায়গার মাটি ভেঙে পুকুরগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন মূল সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে হুমকিতে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ ছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে সড়কের পাশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। বাস ড্রাইভার আহমদ হোসেন বলেন,সড়কের দুই পাশে পুকুর থাকার ফলে খুব আতঙ্ক আরেকটি গাড়ির ওভারটেক করতে হয়।
এ বিষয়ে ইতিপূর্বে এলাকার প্রয়াত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জীবদ্দশায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পুকুর মালিকদের নিজ নিজ পুকুরের নিজস্ব পাড় স্থাপনের জন্য কয়েক দফায় মৌখিক ও লিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে তা আমলে নেননি তারা। এরপর কয়েক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও পুকুর মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরজমিন দেখা যায়, পৌরসদরের সুজানগর এলাকার সড়কের অনেক জায়গা দেবে গেছে, বেশকিছু অংশের মূল সড়কে ভাঙন শুরু হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশের গাছ মাটিসহ ধসে পড়ে গেছে পুকুরে। সড়কের পাশে পায়ে হাঁটার অংশটুকু পুকুরে বিলীন হওয়ায় মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন স্থানীয় লোকজন। সড়কের ভাঙন কবলিত কিছু অংশে সরকারি অর্থায়নে পাকা খুঁটি দ্বারা পাইলিং করা হলেও মাটি না থাকায় ভারী যানবাহনের চাপে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
দিরাই উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন বলেন, পুকুরওয়ালাদের তাদের পুকুরের জন্য আলাদা পাড় করতে হবে, রাস্তার সোল্ডার কখনোই পুকুরপাড় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। উনারা তাই করছেন।
তিনি বলেন, এসব জেলা সড়কের পাশে পুকুর করার ক্ষেত্রে সড়কের জায়গা বাদ দিয়ে অন্তত ১০ ফুট প্রস্থের আলাদা পাড় থাকতে হবে।
JA




