হবিগঞ্জে মাদক দিয়ে ভাইকে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের সোর্স গ্রেপ্তার
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৩ AM

হবিগঞ্জে মাদক দিয়ে ভাইকে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের সোর্স গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/১০/২০২৩ ১০:৫০:৪৯ AM

হবিগঞ্জে মাদক দিয়ে ভাইকে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের সোর্স গ্রেপ্তার

ছবি : নিজস্ব


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের আজিমাবাদ গ্রামে বড় ভাই ও ছোট  ভাইয়ে দ্বন্দের জেরে বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় ছোট ভাইকে গাঁজা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে সোর্স সাদেক মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোর্স সাদেক মিয়া আজিমাবাদ এলাকার মানিক মিয়ার পুত্র। রবিবার বিকেলে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে মামলা দায়ের পর ঘটনার মূলহোতা ছানু মিয়া পলাতক রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে আজিমাবাদ এলাকার মৃত আব্দুল কালামের বড় ছেলে ছানু মিয়া  (৪০) এর  স্ত্রীকে গালমন্দ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়৷ একপর্যায়ে ছানুর স্ত্রীকে ছোট ভাই  ৮ম শ্রেনী পড়ুয়া মাদ্রাসার ছাত্র  ছানি  অপমান অপদস্ত করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তিও করা হয়। সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করলেও তাদের মধ্যে অন্তর দ্বন্দ্ব থেকে যায়। কোনভাবেই ছোট ভাই ছানিকে স্বায়েস্তা করতে না পেরে সোর্স সাদেকের পরামর্শে গাঁজা দিয়ে ফাঁসানোর সিদ্ধান্ত নেয় বড় ভাই। রবিবার বিকেলে বড় ভাই ছানুর পরিকল্পনায় সোর্স সাদেক ছানির বসত ঘরের পিছনে টয়লেটের ছাদে ১৫ কেজি গাঁজা রেখে চুনারুঘাট থানা পুলিশকে খবর দেয় সোর্স ছাদেক। পুলিশ মাদকের খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক এসআই আলাওল হোসেনের নেতৃত্বে এসআই ছদরুল আমীন ও সহকারী উপপরিদর্শক মনির সহ একদল পুলিশ উপজেলার আজিমাবাদ  এলাকার  সোর্সের দেয়া তথ্যমতে মৃত আবুল কালমের  টয়লেটের ছাদ থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন।  একই সাথে ছানুর ছোট ভাই ছানিকেও থানায় নিয়ে আসা হয়। ছানি(১৬) চুনারুঘাট  আলিম উল্ল্যাহ মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্র। 

এদিকে ছানি  আটকের খবর পেয়ে রাতেই  স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিতুর রহমান ও  গ্রামবাসী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সহ  অর্ধশতাধিক লোক থানায় সামনে জড়ো হন  এবং তাকে মুক্তির দাবী করেন।

ছানির বড় বোন সাহেদা জানান, শনিবার দুপুরে আমার ছোট  ভাই ছানি  গোসলে ছিলো হঠাৎ তাদের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে  পিছনে একটি  বাতরুমের ছাদ থেকে গাঁজা উদ্ধার করে আমার ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি বলেন ছানুর স্ত্রীকে ছানি  গালমন্দ করা নিয়ে দুইবার মধ্যে অন্তর দ্বন্দ্ব ছিল৷ তাদের পাশ্ববর্তী বাড়ির মাদক কারবারি পুলিশের সোর্স  ছাদেক মিয়ার মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে গাঁজা রেখে তার অসুস্থ ভাইকে ফাঁসিয়েছে। তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে  ভাইয়ের মুক্তি চান।একই মাদ্রসার ৮ম শ্রেনী পড়ুয়া ছানির ৩ ক্লাসমেট জানায় আটক  ছানির সাথে তারা ক্লাস ওয়ান থেকে পড়াশোনা করছে। ছানি অত্যান্ত  নম্র, ভদ্র ও মেধাবী।  ছানি অসুস্থও সে  গাঁজা ব্যবসা করতে পারেনা।  ছানিকে ফাঁসানো হয়েছে দাবী করে এর সাথে  জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ছানির মুক্তি দাবী করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান মুহিতুর রহমান রুমন ফরাজি জানান, ছানি নিঃস্বন্দেহ  ভাল ছেলে। তিনি এঘটনার প্রকৃত কারবারিকে খুঁজে বের করতে  পুলিশের কাছে সঠিক  তদন্তের  দাবী জানালে ।

থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি রাশেদুল হক  বিষয়টি নিয়ে  নিবিড় তদন্তে নামেন এবং  ছানিকে তার পরিবারের জিম্মায় দেন। ওসি বলেন, ঘটনা সন্দেহ হলে  একপর্যায়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ছানি  তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর  সঙ্গে গালমন্দ নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা উল্লেখ করে এবং এই গাজা তাদেরই সাজানো বলে জানালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া সাদেক দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাদেককে গ্রেপ্তার করা হয়।  সোর্স সাদেক পুলিশের  জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে  ছোট ভাইকে ফাঁসানোর বিষয়টি স্বীকার করে । পরবর্তীতে  এ ঘটনায় চুনারুঘাট  থানার সহকারী উপপরিদর্শক মনির হোসেন  বাদী হয়ে সোর্স সাদেক মিয়াকে প্রধান আসামি  করে বড় ভাই সহ দুইজনের  নামে চুনারুঘাট  থানায় মাদক আইনে মামলা করেন।

ছোট ভাই ছানি জানায় , বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পারিবারিক বিরোধ ছিলো, নিষ্পত্তিও হয়েছে। কিন্তু বড় ভাই অবশেষে সোর্স সাদেক মিয়াকে ভাড়া করে মাদক মামলায় ফাঁসাতে চেয়েছেন। ভাবতে অভাক লাগে।

স্থানীয়রা জানায়, সাদেক মিয়া মাদক কারবারি সে  দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল । ছানির পরিবার ও  স্থানীয়রা সাদেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ।

এম সি