ছবি:নিজস্ব
আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (জুড়ি-বড়লেখা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শরিফুল হক সাজু।
এমন প্রত্যয়ী ঘোষণা ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে বড়লেখা পৌরশহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে গন মিছিল ও সমাবেশ। এতে কয়েক হাজার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী অংশ নেন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৫ টায় বড়লেখা পৌরশহরের উত্তর চৌমুহনী থেকে বর্ণাঢ্য এক গন মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মধ্যবাজারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শরিফুল হক সাজু।
এসময় তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মত দেশ ও জনগণের জন্য ভোগ বিলাসিতা ত্যাগ করে দিন রাত, জাতির কল্যাণে তিনি কাজ করেগেছেন। আমাদের এই নীতি অনুসরণ করতে হবে,তাহলে আমরা সবাই ভালো থাকবো জনগণ ও আমাদের পাশে থাকবে।
আমি মামলা-হামলা গুম এসবের জন্য দেশে আসতে পারিনি। কিন্তু দেশের মাটি, মায়ের মুখ আর জনগণের ভালোবাসা আমায় ফিরিয়ে এনেছে। আজ আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনগণের সেবক হওয়ার অঙ্গীকার করছি।
শরিফুল হক সাজু প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম, আমি যাতে দেশে আসতে না পারি তাই আমার ভাইকে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকার এক সপ্তাহ গুম করে রেখেছিল। এবং আমাকে এবং আমার পরিবারকে বলা হয়েছিলো আমি দেশে আসলে ওরা আমার ভাইদের গুম করে মেরে ফেলা হবে। আমি চাই, এই এলাকার প্রবাসীরা ফিরে এসে যেন গর্ববোধ করতে পারেন—তারা যে অঞ্চলের মানুষ, সেটি এখন উন্নয়নের দৃষ্টান্ত।
কষ্টহয় যখন দেখতে পাই বড়লেখা ও জুড়ীর মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ মৌলিক সেবাথেকে বঞ্চিত। অথচ এই এলাকা প্রবাসী অধ্যুষিত, এখানকার মানুষ দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। তবুও উন্নয়ন তাদের ছুঁয়ে যায় না। ধানের শীষ বিজয়ী হলে এ অঞ্চলের বৈষম্য দূর করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষ বিজয়ী হলে জুড়ী-বড়লেখায় আধুনিক অবকাঠামো, তরুণদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, সেবা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমার অঙ্গীকার। আমি চাই বড়লেখা ও জুড়ীর মানুষ যাতে আর বঞ্চিত না থাকে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব।
নিজ বক্তব্যের শেষ দিকে শরিফুল হক সাজু বলেন, “দল আমাকে মনোনয়ন দিক বা না দিক, আমি ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয়ের জন্য মাঠে থাকব। আমি বিশ্বাস করি, বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মী যদি এক হয়ে কাজ করে, তাহলে বড়লেখা- জুড়ীতে গণমানুষের জয় অনিবার্য।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান ফারুক।
বক্তব্য রাখেন সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তুতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নছিব আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মালিক, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুতিউর রহমান তোতাব আলী, জুড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদির পলাশ ও বড়লেখা উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রায়হান মো: মুজিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, “শরিফুল হক সাজু একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপির নিবেদিত প্রাণ। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে মামলার কারণে দেশে ফিরতে না পারলেও, ফিরে এসে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের পুনরায় সংগঠিত করছেন।
তারা আরও বলেন, “গণমানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক ও জনপ্রিয়তার কারণে শরিফুল হক সাজু যদি এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পান, তাহলে মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে। তিনি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন বড়লেখা শহর। পুরো এলাকা জুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস, উৎসাহ আর ঐক্যের সুর। বক্তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনের প্রতিটি স্তরে ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি তৃণমূলের অবদান ও ত্যাগের মূল্যায়ন করার অনুরোধ করেন।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




