ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরের সন্তান সৈয়দ আবুল হোসেন মালয়েশিয়া পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। এ খবরে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরে থাকা আত্মীয়-স্বজন এবং লন্ডনে বসবাসরত স্বজনদের মধ্যে উৎসবমুখর আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আবুল ফজল ১৯৫৫ সালে সৈয়দপুর থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরে মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করে একজন মালয়েশিয়ান তরুণীকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্যে জন্ম নেন সৈয়দ আবুল হোসেন। মা মালয়েশিয়ান এবং পিতা বাঙালি হলেও সৈয়দ আবুল হোসেন তাঁর পিতৃপরিচয় ও পূর্বপুরুষদের নিয়ে গর্ববোধ করেন। যদিও ভালো বাংলা বলতে পারেন না, তবুও তিনি নিকটাত্মীয় এবং পিতার জন্মভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন।
ইংরেজিতে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন-
‘আমার পূর্বপুরুষ বাঙালি হওয়াতে আমি গর্বিত। আমি নিজেকে একজন বাঙালি মনে করি।’
হাফিজ মাওলানা সৈয়দ আবুল ফজলের সাত পুত্র ও পাঁচ কন্যার মধ্যে সৈয়দ আবুল হোসেন দ্বিতীয়। তাঁর বড় ভাই সৈয়দ আবুল হাসান মালয়েশিয়া সরকারের বৃত্তি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে ডাক্তারি পাশ করেন। তিনি ২০০০ সালে ইন্তেকাল করেন। সৈয়দ ছাবির আহমদ জানান, কয়েক বছর অন্তর তাঁর চাচা বাংলাদেশ সফর করতেন এবং সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে আসতেন।
১৯৬০ সালের ২৯ জুলাই মালয়েশিয়ার তাইপিং পেরাক এলাকায় জন্মগ্রহণ করা সৈয়দ আবুল হোসেন মালয়েশিয়ান বিএন পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি। এর আগে তিনি মিনিস্ট্রি অব হাউজিং অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্ট-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মালয়েশিয়ান কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি সরকার কর্তৃক ‘দাতু’ খেতাবে ভূষিত হন। মালয়েশিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রিধারী সৈয়দ আবুল হোসেন বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি সর্বশেষ ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সফর করেন। এর আগে তিনি একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁর ইচ্ছা-সন্তানরাও যেন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে। সে লক্ষ্যে তিনি তাঁর মেয়েকে চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সাথে বিবাহ দিয়েছেন। তাঁর মেয়ে ও জামাতা বর্তমানে ইংল্যান্ডের লিডস শহরে বসবাস করছেন।
তাঁর চাচাতো ভাই সৈয়দ ছাবির আহমদ জানান, সৈয়দ আবুল হোসেন বাংলাদেশে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেন। তিনি প্রায়ই লন্ডন সফর করেন এবং সেখানে গেলে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করেন।
সৈয়দ আবুল হোসেনের ভাগিনা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক সৈয়দ জহুরুল হক বলেন, ‘তিনি লন্ডনে আসলে সকল আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার খবরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
তিনি জানান, সৈয়দ আবুল হোসেন ১৬ সন্তানের জনক এবং তিনটি বিয়ে করেছেন। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই মালয়েশিয়ান নাগরিক স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ ও লন্ডনে তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসীর মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।
ইংল্যান্ডের ডার্লিংটন শহরে বসবাসরত তাঁর চাচাতো ভাই, কমিউনিটি নেতা ইমাম সৈয়দ ছাবির আহমদ বলেন, ‘সৈয়দ আবুল হোসেন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আমরা গর্বিত। এ গৌরব শুধু আমাদের নয়-সমগ্র বাংলাদেশ ও বাঙালির।’
উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ বলেন, ‘সৈয়দ আবুল হোসেন মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় সৈয়দপুরের বাসিন্দা হিসেবে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




