ছবি:সংগৃহীত
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বড়লেখা উপজেলার ফকির বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রথমবারের মতো অগ্রগতি প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার বর্ণী ইউনিয়নের ‘অগ্রগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় ইউনিয়নের ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ১৩২ জন মেধাবী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন গলগজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় ফলাফল প্রকাশ, পুরস্কার বিতরণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাইজমানি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
মেধার ক্রমানুসারে পরীক্ষায় ৩ জনকে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং ১৭ জনকে সাধারণ গ্রেড বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম হয়েছে নন্দকিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরসব্রত দাস, সে পেযেছে সনদ পত্র ও নগদ ১৫হাজার টাকা, দ্বিতীয় হয়েছে মিহারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বনজিৎ দাস সে পেয়েছে সনদ পত্র ও নগদ ১০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় হয়েছে সৎপুর বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল বারী আরিয়ান সে পেয়েছে সনদ পত্র ও নগদ ৫ হাজার টাকা।
সাধারণ গ্রেডে উত্তীর্ণ ১৭ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র ও নগদ ১ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
অগ্রগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফকির বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক, আমেরিকা প্রবাসী ফারুক আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- এম মোন্তাজিম আলী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আসুক উদ্দিন, ফকির বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরজাহান চৌধুরী, বর্ণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়দে আজম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. কামাল উদ্দিন, শিক্ষানুরাগী মাওলানা ফয়েজ আহমদ
স্বাগত বক্তব্য দেন অগ্রগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক জাহের আহমদ।
সংস্থার সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু মেধাবীদের খুঁজে বের করা নয়-বরং তাদের দক্ষতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা।’ তিনি জানান, বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে দুই জন গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীর ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় সংস্থার পক্ষ থেকে বহন করা হবে। শুরু থেকে সংস্থাটি মানুষের কল্যাণে বিভিন্নভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিভাবক জানান, এ ধরনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করবে এবং তাদের প্রতিযোগিতামূলক মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পেয়ে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




