মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপারকে ঘু-ষ দেয়ার চেষ্টা, আ-টক ২
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ PM

মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপারকে ঘু-ষ দেয়ার চেষ্টা, আ-টক ২

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১/০৫/২০২৬ ০২:৪৩:৪৮ PM

মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপারকে ঘু-ষ দেয়ার চেষ্টা, আ-টক ২


মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় তালাকপ্রাপ্ত প্রবাসী স্বামীর বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া থানায় তাদের আটক করা হয়।

আটক জেসমিন আক্তার উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের তাহির আলীর মেয়ে। অন্যদিকে সামাদ একই ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে ও পেশায় ব্যবসায়ী।

পুলিশ জানায়, কুলাউড়ার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার সঙ্গে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। তালাকপ্রাপ্ত স্বামীকে নাজেহাল করতে ইতোপূর্বে জেসমিন তার মেয়েকে মাহতাব মিয়া ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তালাকপ্রাপ্ত স্বামী মাহতাব মিয়ার বিদেশ যাওয়ার খবর শুনে সাবেক স্বামী যাতে বিদেশ না যেতে পারেন সেজন্য জেসমিন বৃহস্পতিবার দুপুরে নগদ দুই লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ী সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে কুলাউড়া থানায় আসেন। তখন থানা পরিদর্শন করেছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান। পরিদর্শনের সময় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সে সময় জেসমিন তার স্বামীর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার জন্য সামাদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। একপর্যায়ে সামাদ চৌধুরী কৌশলে জেসমিনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে সেখান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে ৪০ হাজার টাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দিতে যান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সামাদ ও জেসমিনকে টাকাসহ আটক করে পুলিশ।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সামাদ ও জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, কুলাউড়া থেকে জেসমিন আক্তার নামের এক মহিলা বেশ কয়েকদিন থেকে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি আমার অফিসে এসে দেখা করতে চাইলে আমি তাকে কুলাউড়া থানায় এসে দেখা করতে বলি। থানায় ওই মহিলা একটি খাম আমার হাতে দিলে সেটি খুলে দুইশত টাকার দুই বান্ডিল নোট দেখতে পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে টাকাসহ তাকে আটক করাই। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

জৈন্তা বার্তা/আরআর