সংগৃহিত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় তীব্র তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অনিয়ন্ত্রিত ও ঘনঘন লোডশেডিং। বিদ্যুতের এই ‘ভেলকিবাজি’র কারণে পুরো উপজেলার আপামর জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দিনের বেলা তো বটেই, রাতের বেলা অবস্থা আরও করুণ হয়ে ওঠে ১ ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিদ্যুৎ আসার পর ২ মিনিটের মধ্যেই ৫ থেকে ৭ বার আসা-যাওয়া করে।
স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য মতে, জগন্নাথপুর উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৮.৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫.৪০ মেগাওয়াট। ফলে দৈনিক ৩.৪০ মেগাওয়াটের বিশাল ঘাটতি নিয়ে ধুঁকছে পুরো উপজেলা। এই ঘাটতির দরুন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের প্রধান প্রধান প্রভাব: সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে এই ঘনঘন লোডশেডিংকেই দায়ী করছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী।
তাদের অভিযোগ—পরীক্ষার সময় রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় এবং প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেনি, যা তাদের ফলাফলেও প্রভাব ফেলেছে।
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথেই উধাও হয়ে যায় বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা। ফলে জরুরি যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কাজে চরম স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে।
তীব্র তাপদাহে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন। অতিরিক্ত গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা পুরো পরিবারগুলোর।
উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়ানক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনেক গ্রামে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। অথচ মাস শেষে ভূতুড়ে ও আকাশচুম্বী বিদ্যুৎ বিল আসছে বলে অভিযোগ ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের।
স্থানীয়দের ক্ষোভ “বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন যাবে তার কোনো ঠিক নেই। বিদ্যুৎ না পেয়েও যদি প্রতি মাসে অতিরিক্ত বিল গুনতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা অবিলম্বে এই ভোগান্তির অবসান চাই।”
উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং নিম্নাঞ্চলের বিদ্যুৎ ভোগান্তি কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন জগন্নাথপুরের সর্বস্তরের মানুষ।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




