সুনামগঞ্জের ছাতকে কথিত 'চাঁদাবাজ' আনোয়ার হোসেন রনি কর্তৃক ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে নিজের গ্রাম ও গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অপকর্মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই গ্রামের মানুষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর-মাঞ্জিহারা গ্রামবাসীর আয়োজনে গ্রামের রাস্তায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আবদুল আউয়াল, আবদুল মছব্বির, ফরিদ উদ্দিন, আবদুল গফফার, নিয়ামত আলী, আবদুল কাহার ফকির প্রমুখ।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মকদ্দুছ আলী ও উস্তার আলী, মুরব্বী রজব আলী, আলা উদ্দিন, আবদুল হেকিম, আবদুল মুকিত, আবদুল কাহার, আলী আহমদ, সমুজ আলী, কাপ্তান মিয়া, ছাবুল মিয়া, ইমান আলী, গোলাম হোসাইন, হাফেজ নুর আহমদ, তকদ্দুছ আলী, ইসলাম উদ্দিন, আবুল হোসেন, কাওছার আহমদ, জামিল আহমদ, ফরিদ মিয়া, কিতাব আলী, জাবেদ আহমদ, আবুল বশর, নাঈম আহমদ, তানভীর আহমদ, শাহ আলম, শরিফ উদ্দিন, দুলাল আহমদ, আবদুল মালিক, কালা মিয়া, কালা আহমদ, রুবেল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুস ছোবহান খেছরা, নেছার আহমদসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত ২৭ জুলাই গ্রামের পিডিবির একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায়। যে কারণে গ্রামের মানুষ ছিলেন অন্ধকারে। বিদ্যুৎ না থাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় পড়ুয়া তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি উত্তোলন করতে না পেরে ব্যবহারিক পানিরও চরম সংকটে ছিলেন গ্রামের মানুষ। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীর জন্য একটি ট্রান্সফরমার বরাদ্দ দেয়। এটি পাঠিয়ে দিয়ে স্থাপনের কাজ করছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন রনি নামের কথিত চাঁদাবাজ সাংবাদিক ট্রান্সফরমার স্থাপনে বাধা দেন এবং এটি স্থাপনের জন্য ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। যে কারণে সেদিন বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারটি স্থাপন না করে কর্মীরা চলে যান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক দিন পরে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ গেট এলাকায় উত্তেজিত জনতার হাতে লাঞ্ছিত হন কথিত ওই চাঁদাবাজ সাংবাদিক। ওইদিন সন্ধ্যায় ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবিতে কয়েকশ মানুষ সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বুড়াইরগাঁও বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার কাছে এসে তাদের শান্ত করে ট্রান্সফরমার স্থাপনের আশ্বাস দেন সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেল) শেখ মোরছালিন। ওইদিন রাতে দুই গ্রামবাসীর পক্ষে আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন রনির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়নি বা তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এদিকে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গত ৯ আগস্ট বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তি করা হয়। আপসের বিষয়টি পূঁজি করে নিজের পক্ষে নিজেই সাফাই গেয়ে মধ্যস্থতাকারী মুরব্বিদের আপস উপেক্ষা করে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে উল্টো নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়াসহ অসত্য, মনগড়া কথাবার্তা দিয়ে নিউজ সাজিয়ে নিজের ফেসবুক ও একাধিক পোর্টালে প্রকাশ করেছেন চাঁদাবাজ আনোয়ার হোসেন রনি।
তাদের দাবি, মূলত নিজের দোষ ঢাকতে গ্রামবাসী ও মুরব্বিদের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করেছে রনি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিউজ ছড়ানোর কারণে সংবাদ সম্মেলনে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রনির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এজাহারটি মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া তারা বলেন, যুগান্তরের মতো প্রথম শ্রেণির একটি পত্রিকা আনোয়ার হোসেন রনির মতো চাঁদাবাজকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নিজেদের কলঙ্কিত করেছে। স্থায়ীভাবে তাকে বহিষ্কার করে সংবাদপত্রের মানকে সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




