ছবি:সংগৃহীত
সিলেট মহানগরীর রায়নগর এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় প্রবীণ দম্পতি ও গৃহপরিচারিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার বাবুল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। ছোরাটিতে শুকনো রক্তের দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির।
ওসি জানান, রায়নগরের মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় প্রবীণ দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবুল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিহত দম্পতির ছেলে দেশে ফেরার পর এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনি থেকে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। তিনি মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ)-এর ছেলে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তাঁর দেখানো স্থান থেকে একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ছোরাটিতে শুকনো রক্তের দাগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার হওয়া ছোরাটি হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকালে বাবুল ওই বাসায় গেলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন।
পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এতে তাহমিনা রাজি না হলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে নিজের এলাকায় চলে যান। অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের সন্তানরা দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেন। তাঁদের চার সন্তানের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই মেয়ে বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছান।
তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেটে অবতরণের কথা থাকলেও বিলম্বের কারণে দুপুর দেড়টার দিকে তারা সিলেটে পৌঁছান। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে রায়নগরের বাসায় ফেরেন। শুক্রবার নিহত দম্পতির দাফন হওয়ার কথা রয়েছে। নিহতের ছেলে ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ ইফতেখার যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুক্রবার দেশে ফিরবেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
ট্রিপল মার্ডারের পর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসাটির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
নিহতরা হলেন-বিয়ানীবাজারের আখাখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে ও বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ছোরা, অন্যান্য আলামত ও বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




