মৌলভীবাজারে টাঙ্গুয়া ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নে অংশীজন কর্মশালা
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ AM

হাওর শুধু জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নয়, প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন, অতিথি ও আবাসিক পাখির নিরাপদ আশ্রয় এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

মৌলভীবাজারে টাঙ্গুয়া ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নে অংশীজন কর্মশালা

সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী

প্রকাশিত: ০২/১২/২০২৫ ০৮:২১:১৭ PM

মৌলভীবাজারে টাঙ্গুয়া ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নে অংশীজন কর্মশালা

ছবি:সংগৃহীত


টাঙ্গুয়া ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক অংশীজন কর্মশালা সোমবার (১ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ও যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ মাহে আলম।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও আইসিটি) মো. রোকন-উল-হাসান, উপপরিচালক সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. শাহিনা আক্তারসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, হাকালুকি হাওর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। এটি শুধু জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নয়, প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন, অতিথি ও আবাসিক পাখির নিরাপদ আশ্রয় এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাত কমাতেও হাওরটি একটি কার্যকর প্রাকৃতিক বাফার হিসেবে কাজ করে।

তাঁরা আরও বলেন, হাওর সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। অবৈধভাবে মাছ আহরণ, পাখি নিধন, জলাশয় ভরাট, দখল, দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নির্বিচার ব্যবহার হাওরের স্বাভাবিক প্রতিবেশকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। তাই সুরক্ষা আদেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

বক্তারা উল্লেখ করেন, জুড়ী নদী ও কন্টিনালা নদীর পানিপ্রবাহ হাকালুকি হাওরে পতিত হয়। তাই এই দুই নদীর স্বাভাবিক ও বাধাহীন প্রবাহ নিশ্চিত করা হাওরের টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। পানির প্রবাহ বজায় থাকলে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন থাকবে। এ কারণে নদীগুলোর খনন, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পলিমাটি অপসারণ অত্যন্ত জরুরি। এতে হাওরের জলধারণ ক্ষমতা বাড়বে এবং প্রতিবেশ আরও সুসংহত হবে।

বক্তারা বলেন, দেশের বৃহত্তম মিঠাপানির জলাধারগুলোর অন্যতম হাকালুকি হাওর-জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও স্থানীয় জীবিকার জন্য অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। এই হাওরকে রক্ষা করতে হলে আইনি সুরক্ষা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এসিল্যান্ড, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও হাওর সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ