পাথরের আগ্রাসনে বিপন্ন কৃষি জমি | ছবি : জৈন্তা বার্তা
উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা বালু পাথরের আগ্রাসনে বিপন্ন হচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের কৃষি জমি। সামান্য বৃষ্টিতে সীমান্তের ওপার থেকে পাহাড়ি ঝর্ণা (ছড়া) দিয়ে পানির সঙ্গে নেমে আসা বালু পাথর ছড়িয়ে পড়ছে এপারের কৃষি জমিতে। দিন দিন বালুর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে বালুর আস্তরণে উর্বরতা হারাচ্ছে এসব কৃষি জমি। একসময় যেখানে ছিল আবাদি কৃষি জমি, বিশাল বিশাল পুকুর-খাল বালু পড়ে তা দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে এমনটাই জানালেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, একমাত্র ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন অনেকে। বালুর আগ্রাসনের শিকার উপজেলার শতাধিক পরিবার । ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা এখন পরিবার চালাতে দিনমজুর, বারকি শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার সীমান্ত এলাকার অধিকাংশ কৃষি জমির ওপর ৩-৪ ফুট বালুর আস্তরণের কারণে ফসল ফলানো যাচ্ছে না জমিতে। এতে কৃষক পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দশা। একমাত্র ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা কৃষকদের জীবন চলছে অতি কষ্টে। তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা রজনীলাইন গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন, একই গ্রামের সমাজকর্মী হেকমত আলীসহ অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানিয়েছেন, এ সমস্যা বহু দিনের। তবে ২০০৫ সাল থেকে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এখানকার অধিকাংশ কৃষকরা তাদের জমিতে ধান বুনতে পারেনা বালুর স্তুপের জন্য।এখানকার কৃষকরা এখন শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
জানা গেছে, পাহাড়ে ঘনঘন বৃষ্টি হওয়ায় বিশেষ করে বর্ষাকালে বালুর সঙ্গে বড় বড় পাথরও নেমে আসে। শুধু যে কৃষি জমি তা নয়, এ আগ্রাসনের শিকার বসতবাড়ি, স্কুল, বাজার। বালুর কারণে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এলাকা। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে সরকার এগিয়ে আসবে এমন প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন সেখানকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোমের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে সব পাহাড়ি এলাকায় জমিতে বালুরস্তুপ পড়েছে সেই সকল জমিতে বাদাম, তরমুজ ও মিষ্টি আলুর চাষ করা যেতে পারে।
JA




