দোয়ারাবাজারে ২৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান : এমপি মানিক
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১২:২১ PM

দোয়ারাবাজারে ২৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান : এমপি মানিক

মামুন মুন্সি, দোয়ারাবাজার

প্রকাশিত: ২৮/১০/২০২৩ ০৫:৫৩:১৯ AM

দোয়ারাবাজারে ২৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান : এমপি মানিক

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন এমপি মানিক


সুনামগঞ্জ-০৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেছেন, দোয়ারাবাজারের নদী ভাঙন প্রতিরোধে ২৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আগামীতে দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর ওপর আরো দুটি সেতু নির্মাণ করা হবে। উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কলেজ হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি কমিউনটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। আজমপুর খেয়াঘাটে শিঘ্রই ফেরি চলাচল করা হবে।

তিনি বলেন, এতিমদের টাকা আত্মসাৎকারীরা বিদেশীদের কাঁধে ভর করে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা এখন ক্ষমতায় আসতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিচ্ছে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবেনা। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী ট্যানেল নির্মাণসহ দেশে একের পর এক উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে।

তিনি আরো বলেন, ‘দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর ছিল খানাখন্দ, পুকুর। আমরা ক্ষমতায় এসে উপজেলা সদরকে শহরে রুপান্তরিত করেছি। ছাতকে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করেছি।  ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে। শেখ হাসিনার সরকারের মাধ্যমে দোয়ারাবাজার উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট সকল সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। এ উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে অপারেশন সিজারিয়ান শুরু হয়েছে। চক্ষুসেবা যুক্ত হয়েছে। এখন মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে।

এমপি মানিক বলেন, ‘আ.লীগ সরকার মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা দিয়ে আসছে৷ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। বিগত দিনে অন্য কোনো সরকার এদেশের আপামর মানুষের জন্য এসব করেনি। আমাদের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা থেকেই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে দেশের কোটি-কোটি মানুষকে। পিছিয়ে নেই ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় উপকারভোগী রয়েছে প্রায় ২০ হাজার লোক। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বীর নিবাস, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, পঙ্গু ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা ও জমিসহ দালাল ঘর দিচ্ছে সরকার। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরকেও উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের উপকারভোগী এসব মানুষ এখন সাচ্ছন্দ্যে জীবন-যাপন করতে পারছে। সরকারি এসব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর পরিধি দিন-দিন আরো বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার সুবিধার্থে শুধু উপবৃত্তি নয়, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকার।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের সরকারের কারনেই এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল দশটায় দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে উপজেলায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উপকার ভোগীদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মানিক এসব কথা বলেন। দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নানের যৌথ সঞ্চালনায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরীর সভাপতিত্বে কয়েক হাজার উপকার ভোগীদের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেক, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল হক, ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালেহা বেগম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ভাতগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন, জেলা জজকোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট ছাইদুর রহমান তালুকদার, উত্তর খুরমা ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ, দোয়ারাবাজার সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ, বোগলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান, মান্নারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সফর আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের সভাপতিত্ব বশির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রুহুল ফেরদৌস পুলক প্রমুখ।

JA