ছবি:নিজস্ব
সুনামগঞ্জের ছাতকে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (বিউবো)’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মজিদকে অবশেষে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর বদলির আদেশ এলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পর শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) তিনি ছাতক ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ভোগান্তির পর তাকে বদলি করা হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার বহু গ্রাহক। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকৌশলীর সহযোগী ও তথাকথিত সিন্ডিকেট সদস্যরা বহাল থাকায় অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা রয়ে গেছে।
বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল ছাতকে যোগদানের পর থেকে প্রকৌশলী আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও মামলা–বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি সাংবাদিকরা তার মন্তব্য নিতে সরাসরি কার্যালয়ে গেলে দরজা বন্ধ অবস্থায় তাদের প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে অনুমতি দেওয়া হলেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিডিও ধারণ করে ‘চাপ সৃষ্টি’র অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও করেন, যা এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।বিউবো সূত্রে জানা যায়, তাকে গত ৩ নভেম্বর বান্দরবান বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি ছাতকে অবস্থান করে বদলি ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং এসময় বিভিন্ন অনিয়মও চলতে থাকে। পরে ২৩ নভেম্বর নতুন করে তাকে ভালুকায় বদলি করা হলে আর চেষ্টা সফল হয়নি।বহু গ্রাহক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রকৌশলী যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও অস্থায়ী কর্মচারীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য—অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া বেশিরভাগ সেবা পাওয়া যেত না।লাইন সংস্কার, মিটার পরিবর্তন, ট্রান্সফর্মার বসানো—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি ছিল।
মিটার না দেখে অতিরিক্ত বিল, ভুল মামলায় নিরপরাধ লোকের কারাভোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছেখুঁটি ও লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতায় দুর্ঘটনায় মানুষ ও গবাদিপশু মারা গেলেও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি অনেকের।স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, হবিগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সরকারী মালামাল বিক্রির অভিযোগে তাকে জরিমানা গুনতে হয়েছিল। এছাড়া একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের করা অভিযোগের তালিকায় তার নাম ছিল বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নিভুক্তভোগীদের অনেকে বলেন,“একজন কর্মকর্তা বদলি হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। তার সহযোগী ও অনিয়মে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দুর্নীতি কমবে না।”এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভাগীয় সূত্রের দাবি, অভিযোগ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




