ছবি:সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরের ‘হাওরখাল’ বিলে মাছ লুটের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বড়লেখার ০১ নং বর্নী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন।
রবিবার দুপুরে এক প্রতিবাদ বার্তায় তিনি বলেন,‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিনিয়ত আমার ও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি হাওরখাল বিলে মাছ লুটের ঘটনার সঙ্গে (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নাসির উদ্দীন আহমদ মিঠুসহ কয়েকজন নেতার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে- যা সম্পূর্ণ বানোয়াট।’
তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত মাছ লুটের ঘটনাকে আড়াল করতেই একটি কুচক্রী মহল বিএনপি নেতাদের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার করছে।
‘২৫ তারিখে যারা রাতভর মাছ লুটপাট করেছে তাদের বিষয়ে কেউ মুখ খুলছে না। উল্টো আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য,’- যোগ করেন তিনি।
জয়নাল আবেদিন দাবি করেন, মাছ ধরার দিনের সংখ্যা ও বিক্রিত মাছের পরিমাণও বিকৃত করে অপপ্রচার ছড়ানো হয়েছে।
৫-৬ দিনের মাছ ধরা ১৭ দিন বানানো হয়েছে, ৬-৭ লাখ টাকার মাছকে ২ কোটি বলা হচ্ছে,- এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ফেক আইডি ব্যবহার করে স্বৈরাচারের দোসররা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব চালাচ্ছে।’
মামলায় সাক্ষী করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘তফসিলদার আমাকে সাক্ষী দিয়েছেন কারণ আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে আমি কারও সঙ্গে কথা বলিনি। যদি কোনো কর্তৃপক্ষ আমার সাক্ষ্য নেয়, আমি যা দেখেছি তাই বলবো।’
তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত লুটকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি যারা তার ও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন তাদের উদ্দেশে হিংসাত্মক রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
হাওরখাল বিলে নিলাম
মাছ লুটের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর প্রশাসনের উদ্যোগে হাওরখাল বিলে একটি তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে প্রকাশ্যে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
নিলামে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার দর দিয়ে হাওরখাল জলমহাল ইজারা নেয় জনকল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
নিলাম কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধিরা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




