ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের আমতৈলী (পূর্ব হাঁটি উত্তর পাড়া) এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা রোববার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার পর আমতৈলী মধ্যপাড়ার চান মিয়ার দোকানে সুরুজ আলীর নেতৃত্বে ১০-১৫ জন মিলে মুসলিম মিয়াকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এর আগে বিকেলে একতা বাজারে প্রতিপক্ষ আবু চান গ্রুপ সুরুজ আলীর গ্রুপের আনোয়ার হোসেনকে ডেকে নেয়। পরিস্থিতি বুঝে আনোয়ার দ্রুত বাজার ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে যান।
শনিবার রাতে ফের চান মিয়ার দোকানে মুসলিম মিয়ার সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে, এতে মুসলিম আবারও গুরুতর আহত হন। এরপর আবু চান গ্রুপের লোকজন আনোয়ারের চাচা–শ্বশুর সামসুল রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার সকাল ৬টার দিকে আবু চান নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন সুরুজ আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ লেগে যায়। আহতদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আবু চান গ্রুপের আক্তার মিয়া বলেন, ‘মুসলিমকে মারধরের পর সকালে সুরুজ আলীর লোকজন আসুক মিয়া ও লাইলীর ওপর হামলা চালায়। এরপর বড় সংঘর্ষ শুরু হয়।’
অন্যদিকে জহির মিয়া বলেন, ‘মুসলিমের বাড়ির দরজা-জানালা, হাড়িপাতিলসহ অনেক কিছু ভাঙচুর ও লুট করেছে। আমরা কাউকে বাজারে আক্রমণ করিনি। আহত মুসলিমকে আমরা-ই হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
সুরুজ আলী পক্ষের জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, ‘শনিবার রাতে ৫০–৬০ জন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।’
সুরুজ আলী গ্রুপের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ আবু চান গ্রুপ এসে আমাদের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। আমরা প্রতিরোধ করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।’
আহতরা হলেন- আবু চান গ্রুপের -লাইলী বেগম, চান বাদশা, আশিক নুর, ময়না আক্তার, রাকিব, মমিন, আবুল বাদশা, হারুন মিয়া, আবু চানসহ আরও কয়েকজন।
সুরুজ আলী গ্রুপের -দিলোয়ার, হৃদয়, তৌফিক, জাকির, ফিরুজ খাতুন, জয়দর আলী, শরিফ, শাহ আলম, হায়দার আলী, আমির আলী, মনির হোসেন, আনোয়ার, নজীর হোসেন, জালাল হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে একটি দোকানে বিস্কুট খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের প্রথম বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই মামলাটি এখনো চলমান। পুরোনো বিরোধ থেকেই নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর পাল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




