ছবি:সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের দুটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চিঠি পেয়েছেন কামরুজ্জামান কামরুল। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল।
রোববার রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র তারা গ্রহণ করেন। তবে তাহির রায়হান চৌধুরীর চিঠিতে তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২০ ডিসেম্বর এবং কামরুজ্জামান কামরুলের চিঠিতে তারিখ রয়েছে ২৭ ডিসেম্বর।
এর আগে, গত ৩ ডিসেম্বর ও ২০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব দলীয়ভাবে চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী সুনামগঞ্জ-১ আসনে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আনিসুল হক এবং সুনামগঞ্জ-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়।
দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আনিসুল হক ও নাছির উদ্দীন চৌধুরী নিজ নিজ আসনে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন এবং ইতোমধ্যে তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সোমবার নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তারা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রথমে আনিসুল হক ও পরে কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ-২ আসনে প্রথমে নাছির উদ্দীন চৌধুরী ও পরে তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল-এই দুই আসনেই দুইজন করে নেতাকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের সময় একজন করে প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কোনো কারণে যদি সুনামগঞ্জ-১ বা সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মূল মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন নির্বাচন কমিশন বাতিল করে, সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থী দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এদিকে রোববার বিকেলে সুনামগঞ্জ–১ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন কামরুজ্জামান কামরুল। তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে নিজ বাড়ির সামনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে এবং নির্বাচনে দলের অবস্থান শক্তিশালী রাখতেই দুটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জি কে গৌছ জানান, সুনামগঞ্জ-২ আসনে দুইজনকে মনোনীত করা হয়েছে এবং প্রতীক বরাদ্দের সময় একজন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। তবে সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




