এক বছরে সুনামগঞ্জের সড়কে ঝ*রেছে ৬৮ প্রাণ
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:৩৬ AM

এক বছরে সুনামগঞ্জের সড়কে ঝ*রেছে ৬৮ প্রাণ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১/০১/২০২৬ ০১:৫৭:২০ PM

এক বছরে সুনামগঞ্জের সড়কে ঝ*রেছে ৬৮ প্রাণ

প্রতীকী ছবি


সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭১ জন। 

জানা গেছে, শুধু সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কেই জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৬২ জনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন আরও ৬৫ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। আহত হয়েছেন সাতজন। ফেব্রæয়ারিতে ১২টি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ২৮ জন। মার্চ মাসে সাতটি দুর্ঘটনায় আটজনের প্রাণ গেছে, আহত হয়েছেন চারজন। এপ্রিলে ছয়টি দুর্ঘটনায় ছয়জনের প্রাণ গেছে। মে মাসে দুটি দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণহানি ঘটে। জুনে পাঁচটি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে চারজনের, আহত হয়েছেন পাঁচজন। জুলাইয়ে আটটি দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ জন। আগস্টে পাঁচটি দুর্ঘটনায় ছয়জনের প্রাণ গেছে, আহত হয়েছেন পাঁচজন। সেপ্টেম্বরে পাঁচটি দুর্ঘটনায় সাতজনের প্রাণ গেছে। 

এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ছয়জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। বছরের মর্মান্তিক কিছু সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে- ৩ জানুয়ারি দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জগন্নাথপুরের তাহফিমুল হাসান আবির নামের এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু। সন্ধ্যায় পাগলা-জগন্নাথপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুরের সীমান্তবর্তী দাড়াখাই নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

৬ জানুয়ারি শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। তারা হলেন- শান্তিগঞ্জের আক্তাপাড়া গ্রামের রাজিন আহমদ এবং তাঁর মামা দিরাই উপজেলার নুরপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম। 

৮ ফেব্রæয়ারি সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের আহসানমারা সেতু এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও দুই যাত্রী। নিহত দুজন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জমির আলী এবং একই গ্রামের আলীনুর। 

১২ ফেব্রæয়ারি জগন্নাথপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ছয়জন আহত হন। জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধ হবিগঞ্জের উমেতনগর গ্রামের রাকেশ রায়। 

১১ মার্চ সকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ছাতকের চৌকা-পরশপুর-চেচান এলাকায় সিলেটগামী একটি প্রাইভেটকার এবং সুনামগঞ্জগামী একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে লেগুনাচালক নুর জামালের মৃত্যু হয়। 

২১ মার্চ দিরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের কান্দাহাটির তফিকুর রহমান। ১৭ এপ্রিল তাহিরপুরে ট্রাক উল্টে প্রাণ হারান চালক মিজানুর রহমান। উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

১৭ এপ্রিল ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় হোসাইন আহমদ নামের ১০ বছর বয়সী এক শিশু মারা যায়। সে উত্তরখুরমা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের নুর আলীর ছেলে ও নোয়াগাঁও হাজি আব্দুল জব্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। 

২৫ জুন শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক-অটোরিকশা-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মিলন মিয়া নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। তিনি টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় জয়কলস উজানীগাঁও সরকারি রশিদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রসহ পাঁচ যাত্রী আহত হন। 

৬ আগস্ট সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের বাহাদুরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। নিহতরা হলেন- শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা জাহান খুশি, তিনি সুনামগঞ্জ শহরের আরপিননগর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং অন্য শিক্ষার্থী শহরের বাঁধন পাড়ার স্নেহা চক্রবর্ত্তী (১৮), তিনি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে সুনামগঞ্জ শহরের বাসায় ফিরছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামে। এ ছাড়া শফিকুল ইসলাম নামের আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালারচর গ্রামের ঐশী রানী পাল নামে শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। 

১৩ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেলযোগে জেলা প্রশাসনের চিঠি বিতরণ করতে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে মৃত্যু হয় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের দুই জারিকারকের। শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনায় দোয়ারাবাজার উপজেলার জমিরুল হক জুয়েল এবং সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ময়নার পয়েন্টের সবদর আলীর মৃত্যু হয়। 

২৬ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে ও সিএনজি চালকের মৃত্যু হয়। একটি পরিবারের দুই সদস্য, মা আরাধ্যা কেশব ও মেয়ে প্রথমা চৌধুরী। ৬ অক্টোবর সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জে পিকআপ ও সিএনজির সংঘর্ষে চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত এবং একজনের হাত দ্বিখণ্ডিত হয়। 

১৮ অক্টোবর ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের অস্থায়ী মৌলা কাঠের সেতু পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলসহ নিচে পড়ে প্রাণ হারান জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি। ২০ অক্টোবর জামালগঞ্জের তরুণ আরফিন আজাদ কৌশিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

২৪ অক্টোবর টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে এসে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে মা-মেয়ে নিহত হন। নিহতরা হলেন- ঢাকার বাসিন্দা মনজুরা আক্তার ও তাঁর মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা। ৭ নভেম্বর জামালগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সড়কে এক শিশু নিহত হয়। জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব লম্বাবাক গ্রামের সামনের সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম জাহেদুল ইসলাম। 

সবশেষ ২২ ডিসেম্বর তাহিরপুরে কয়লাবাহী ট্রাকের চাপায় ২১ বছরের এক যুবকের মৃত্যু হয়। 

জৈন্তা বার্তা/আরআর