দুই টাকা করে চাঁদা তুলে নির্মিত সেতুতে ৩০ বছর পার
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ AM

দুই টাকা করে চাঁদা তুলে নির্মিত সেতুতে ৩০ বছর পার

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/০২/২০২৬ ০৭:০৯:৩৬ PM

দুই টাকা করে চাঁদা তুলে নির্মিত সেতুতে ৩০ বছর পার

সংগৃহিত


প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদের ওপর এলাকাবাসীর উদ্যোগে দুই টাকা করে চাঁদা তুলে নির্মিত ডাকবাংলো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে নলজুর নদের ওপর ১৯৮৬ সালে খাদ্য  গুদামের সামনে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের বাস্তবায়নে নলজুর  সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। তৎকালীন সময়ে সেতুর স্থান নির্ধারণ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা হারুনুর রশীদ হিরন মিয়া ও জাতীয় পার্টি নেতা আছাব আলীর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। জগন্নাথপুর, ইকড়ছই ভবানীপুর যাত্রাপাশা গ্রামবাসী নলজুর নদের ডাকবাংলো এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি জানান। কিন্তু হবিবপুর গ্রামের লোকজন গুদামের সামনে বাস্তবায়ন করতে চান। জাতীয় পার্টি সরকারের শাসনামলে প্রভাব খাটিয়ে আছাব আলী সেতুটি গুদামের সামনে বাস্তবায়ন করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জগন্নাথপুর ও ইকড়ছই এলাকার মানুষ জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে নিয়ে বৈঠক করে ডাক বাংলা এলাকায় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতি রবি ও বুধবার দুই টাকা করে চাঁদা তুলে ফান্ড সংগ্রহ করেন। ব্যবসায়ীদের অনেকেই রড সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করেন। সেই থেকে সেতুটি দুই টাকার সেতু হিসেবে খ্যাতি পায়। দুই টাকা চাঁদায় সেতুর নীচের সব পিলারের কাজ শেষ হলে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেতুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হয়।

২০২১ সালে নলজুর নদ খননকালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি উত্তোলন করায় ডাকবাংলো সেতুর দুটো অংশ দেবে যায়। এক বছর সেতু দিয়ে সবধরনের চলাচল বন্ধ থাকার পর স্টিলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে চালু করা হয়।

সেতু দিয়ে একটি অটোরিকশা চলাচল করলে একজন পথচারী পাঁয়ে হেঁটে চলাচল করতে পারে না। এ অবস্থায় নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যাগ নেয়া হয়। গত জুন মাসে মেসার্স হাসান এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ডাকবাংলো সেতুর কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্তে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। 

দুই টাকার সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল হক জানান, এ সেতুটি আমাদের আবেগ অনুভূতি মিশ্রিত। নিজেরা দুই টাকা করে চাঁদা তুলে সেতুর অধিকাংশ কাজ শেষ করি। সময়ের প্রয়োজনে সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য আমরা সেতুটি নির্মাণ করেছিলাম গত ৩০ বছর সেতুটি উপজেলাবাসীর যাতায়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, দুই দিন হয় ডাকবাংলো সেতুটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদার মালামাল আনতে শুরু করেছেন। আমরা সেতুর কাজ শেষ করতে নজরদারি রাখছি। অপরদিকে নলজুর নদের গুদামের সামনের আর্চ সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

সিলেটে ভালো ক্রিকেটার তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে
বুকে কা/টার দাগ নিয়ে ফ্যানে ঝু/লছিল আল-আমিন- র/হস্যের জ/ট
সিলেটের তিন খু/নের নিরপেক্ষ ত/দন্ত ও দ্রুত বি/চার দাবিতে বি/ক্ষোভ
মাধবপুরে মাদ্রাসাছাত্র জনি হ/ত্যা মামলার আ/সামি শিক্ষক গ্রে/প্তার
উন্নয়নে গ্রুপিং নয়, জনগণের স্বার্থই মুখ্য: হুমায়ুন কবির
১৮ বছরের কম বয়সী চালক গাড়ি চালাতে পারবেনাঃ এমপি মিলন
জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে ভা'রতে যাবেন না প্রধানমন্ত্রী: সিলেটে প্রতিমন্ত্রী
সিলেটে টানা ৫ দিন ভারি বর্ষণের শ'ঙ্কা
রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে চায় সরকার: শামা ওবায়েদ
‘শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’