ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় দুই রাতের বৃষ্টিতে কয়েকটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। কৃষকরা অভিযোগ করছেন দায়সারা বাঁধ নির্মাণের কারণে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তাঁরা। এমনকি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নলুয়ার হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্পে দ্বিতীয় দফা সময় বৃদ্ধির (১৫ দিন আবেদনের পরও) পরও শনিবার পর্যন্ত মাটির কাজ শেষ হয়নি। অপরদিকে নলুয়ার হাওরের ৩ নম্বর প্রকল্প,আশারকান্দি ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর প্রকল্পে ফাটল দেখা দিয়েছে। অপরদিকে ৩ নং মিরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জামাইকাটা হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দেয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, এবার প্রাক্কলন অনুযায়ী বাঁধের কাজ না হওয়ায় দায়সারা বাঁধ নির্মাণ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অকাল বন্যার আশঙ্কায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জামাইকাটা হাওরের ৩৬ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ০.০৫৮ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ/ মুখ বন্ধকরণ কাজের জন্য ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
স্থানীয় কৃষক তানভির মিয়া অভিযোগ কওে বলেন ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৩ লক্ষ টাকারও কাজ হয় নি। দায়সারা বাঁধ নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বাঁধ ধসে পড়েছে।
কৃষক আশাফ আলী বলেন, এই বেড়িবাঁধ নিয়ে আমরা আতঙ্কে রয়েছি। যদি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে তবে ৩ নং মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ সহ আশপাশের কয়েক হাজার কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যাবে। আমরা এখন রাতে ঘুমাতে পারছি না।
জগন্নাথপুর উপজেলার ৩ নং মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহবুব হোসেন বলেন,জামাই কাটা হাওরে বেড়িবাঁধের কাজ ভালো হয় নি। কৃষকরা প্রতিদিন আতঙ্কের কথা জানাচ্ছেন। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. গয়াছুর রহমান বলেন আমি কোন ফাটল বা ধস দেখতে পাইনি। এই হাওরে আমার নিজের অনেক জমিন রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হয় নি এখনো। বাঁধের ত্রুটি মেরামত করে দেবো।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহ ফরিদ মিয়া বলেন, জামাই কাটা হাওরে বেড়িবাঁধে ফাটল শুনেছি। এছাড়াও ৩ ও ৯৪ নম্বর প্রকল্পে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। ১১ নম্বর প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে কাজ চলমান রয়েছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানান, আমরা হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ তদারকি করছি। আশাকরছি কোন সমস্যা হবে না।প্রসঙ্গত, এবার ৩৭ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দে জগন্নাথপুর উপজেলায় ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ১৫ দিন সময় বাড়াতে আবেদন করা হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




