ছবি:সংগৃহীত
আজ ঈদ। চারপাশে উৎসবের আমেজ, কেনাকাটা আর নানা আয়োজনে ব্যস্ত মানুষ। ছোট-বড় সবার মাঝেই খুশির উচ্ছ্বাস। তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের একটি পরিবারে নেই ঈদের কোনো আনন্দ। যেনো ভাঙা ঘরের নিচে চাপা পড়ে আছে তাদের স্বপ্ন আর হাসি।
প্রয়াত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খানের বড় ছেলে আব্দুল গফফারের পরিবার এবারের ঈদ কাটাচ্ছে চরম দুর্দশায়। অভিযোগ রয়েছে, গত রবিবার স্থানীয় এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে তাদের বসতঘর ভেঙে ফেলা হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নেওয়া হয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা বাবার নামে পাওয়া সরকারি বন্দোবস্তের জমিই ছিল পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। সিএনজি চালিয়ে কোনোভাবে চলছিল সংসার। কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। দুই সন্তান ও স্বামী-স্ত্রী-চার সদস্যের এই পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। ঈদের নতুন পোশাক তো দূরের কথা, একই কাপড়ে টানা কয়েকদিন পার করছেন তারা। চারদিন ধরে তাদের খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেনি কেউ।
ভুক্তভোগী আব্দুল গফফার বলেন, ‘বৈশাখী ঝড়ের মতো সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঘরে কিছুই নেই-টিনের চাল থেকে শুরু করে কাপড় পর্যন্ত লুট করা হয়েছে। আমি দিনমজুর মানুষ, সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাই। কিন্তু এখন নিরাপত্তাহীনতায় কাজে যেতেও পারছি না। বাচ্চাদের নতুন কাপড় দেওয়া তো দূরের কথা, এক কাপড়েই চারদিন কাটছে। প্রশাসন বলেছে ঈদের পর জমি চিহ্নিত করে দেবে, কিন্তু আমার ঘর কে বানিয়ে দেবে? এই ঈদ আমাদের জন্য নয়-যারা আমাদের ঘর ভেঙেছে, ঈদ তাদের জন্য।’
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে একটি পরিবারের ঘর ভেঙে লুটপাট করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা যেত।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানান, জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। প্রশাসন বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর জমি পরিমাপ করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ ইসলামপুর গ্রামে এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আব্দুল গফফার বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঈদের আনন্দ যেখানে সবার মাঝে ভাগাভাগি হওয়ার কথা, সেখানে একটি পরিবার আজ বঞ্চিত-ভাঙা ঘরের নিচে চাপা পড়ে আছে তাদের সব স্বপ্ন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




