নিজস্ব
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজ শেষ না হতেই একাধিক স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি ও কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়কটির নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংযোগ বুরুঙ্গা বাজার সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হলেও কাজের মান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশের এজিংয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও পিচ উঠে যেতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়কের কয়েকটি স্থানে গর্ত ভরাট ও দুই পাশের এজিং মেরামতের কাজ করতে দেখা যায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি মেরামতের প্রয়োজন পড়ে, তবে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে কংক্রিট ও বিটুমিনের পরিমাণ কম ব্যবহার করায় সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে বুরুঙ্গা বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হকসহ যানবাহনের একাধিক যাত্রী বলেন,
রাস্তা বানানো শেষ না হতেই ভেঙে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে জনগণের টাকায় একেবারে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে।
স্থানীয় যানবাহনের একাধিক চালক বলেন, সড়কের পাশে এখনই গর্ত দেখা দিয়েছে। গাড়ি চলনা করতে ভয় লাগে। এভাবে কাজ হলে কয়েক মাসেই পুরো রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। পশ্চিম সিরাজ নগর গ্রামের আলফু মিয়া বলেন, ঠিকাদার যা ইচ্ছা তাই করেছে। কাজের মান একদমই ঠিক নেই। এলজিইডির লোকজন দেখেও কিছু বলেনি।আরেক বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন,৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার হয়েছে, কিন্তু মান দেখে মনে হয় অর্ধেক কাজও ঠিকভাবে হয়নি। এখনই ভাঙতে শুরু করেছে। স্থানীয় সমাজসেবক সফিকুল ইসলাম বলেন, এটা শুধু দুর্বল কাজ নয়, বরং পরিকল্পিত অবহেলার মতো মনে হচ্ছে। তদন্ত না করলে আসল সত্য বের হবে না। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান এবং ওসমানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




