ছবি:সংগৃহীত
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেছেন, একজন সন্তান যদি মানবিক সন্তান হয়ে ওঠে, তাহলে সেটিই পরিবার ও সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ। কাঙ্ক্ষিত মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে বই পড়ার মাধ্যমে আমাদের আত্মিক ও মানবিক বিকাশ ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, বাবা-মাকে কীভাবে সম্মান করতে হয় এবং তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হয়-তা বই না পড়লে শেখা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে একটি মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের আয়োজনে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ‘সিলেট বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করা এবং জ্ঞানচর্চার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সাহিত্যের বৈচিত্র্য ও বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কৃতি সচিব বলেন, একেকটি বই মানুষের অনুভূতি, চিন্তা ও চেতনাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য পাঠে অন্তরে এক ধরনের অনুভূতির জাগরণ ঘটে, আবার কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য পাঠে সৃষ্টি হয় ভিন্ন ধরনের আবেগ ও উদ্দীপনা।
তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন লাইব্রেরি থেকে একটি বই এনে পরিবারের সবাই মিলে ভাগাভাগি করে পড়া হতো। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন সরকার মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের এ ইতিবাচক উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে বই পড়ায় উৎসাহিত হতে হবে। বইয়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে। তাহলেই আমরা জ্ঞানভিত্তিক, আলোকিত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ারুল হক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মুঃ বিল্লাল হোসেন খান এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব, প্রশাসন ও হিসাব) মোছা. মরিয়ম বেগম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান মো. সাইফুল ইসলাম লিমন।
বিভাগীয় এ পাঠক সমাবেশে সিলেটের বিভিন্ন বয়সী বিপুলসংখ্যক পাঠক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। বক্তারা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠাভ্যাস সম্প্রসারণ এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




