প্যানেল দ্ব*ন্দ্বে থ*মকে আছে কার্যক্রম, ভো*গান্তিতে ১৭ হাজার মানুষ
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৪ PM

পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ

প্যানেল দ্ব*ন্দ্বে থ*মকে আছে কার্যক্রম, ভো*গান্তিতে ১৭ হাজার মানুষ

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৬/০৮/২০২৬ ০১:৩০:০০ AM

প্যানেল দ্ব*ন্দ্বে থ*মকে আছে কার্যক্রম, ভো*গান্তিতে ১৭ হাজার মানুষ

ছবি: জৈন্তা বার্তা


গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমানে চেয়ারম্যানশূন্য। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর নতুন করে দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে ইউপি সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে পরিষদের কার্যক্রম। ফলে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের ১৭ হাজার ৬১৮ জন ভোটারসহ সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিন আকস্মিকভাবে মারা যান। এরপর থেকেই কার্যত অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে ইউনিয়ন পরিষদটি। নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও ইউপি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও জটিলতার কারণে এখনো নতুন কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নে গোলাম কিবরিয়া হেলাল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে পরিষদের সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে আলিম উদ্দিনকে ১ম প্যানেল চেয়ারম্যান, ফারুক আহমদ বাবুলকে ২য় এবং প্রবাসী রাণীকে ৩য় প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মূল চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল অনুপস্থিত থাকায় ১ম প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আলিম উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আলিম উদ্দিনই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আলিম উদ্দিনের মৃত্যুর পর ২য় প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বাবুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এতদিন ১ম প্যানেল চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী ২য় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আমার কাছেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। জনগণের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, বর্তমান প্যানেল বাতিল করে নতুন প্যানেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন ইউপি সদস্য মাসুক আহমদ। তিনি বলেন, “বিগত আওয়ামী সরকার ও তৎকালীন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গঠিত এই প্যানেল আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। অবিলম্বে বর্তমান প্যানেল বাতিল করে নতুন প্যানেল গঠন করতে হবে। যোগ্য ব্যক্তির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি দূর করা জরুরি।”

তিনি আরও জানান, বর্তমান প্যানেল বাতিলের দাবিতে পরিষদের সাত সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চেয়ারম্যান বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান না থাকায় পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, “চেয়ারম্যান বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও অনুমোদন ছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ এবং সরকারি অনুদান বণ্টন আটকে আছে। দ্রুত সমাধান না হলে নাগরিক ভোগান্তি আরও তীব্র হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যান না থাকায় জরুরি কাগজপত্র ও বিভিন্ন সনদের কাজ করানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে এসে সাধারণ মানুষকে ফিরে যেতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সংকটের সমাধান চাই।”

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, “পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত আছি। স্থানীয় সরকার আইন ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী দ্রুত সেখানে দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয় এবং নাগরিক সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মৃত্যু এবং নতুন প্যানেল গঠন নিয়ে ইউপি সদস্যদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নাগরিক সেবা স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনানুগ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ