প্রতীকি ছবি
বাসা ভাড়া দেয়ার চাপ, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি, বুয়ার টাকা দেয়া এবং ময়লা পরিষ্কারের পৌর ট্যাক্স দিতে যেখানে মেসে থাকা ব্যাচেলরদের হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে দ্রব্যমূল্যের প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বগতি যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেসে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ব্যাচেলরদের।
গেল বছরে যেখানে খাবারে ব্যয় হত ১৫শ থেকে ১৬'শ টাকা বর্তমানে সেখানে ব্যয় হচ্ছে ২৫'শ থেকে ৩হাজার টাকা। তাছাড়া বিদ্যুৎ বিলের দাম বাড়ানো, বুয়ার টাকা, ময়লা পরিষ্কারের পৌর ট্যাক্সসহ শুধু খেয়ে বেঁচে চলতেই ব্যাচেলরদের গুনতে হচ্ছে মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
আজ ১১ই নভেম্বর বিশ্ব ব্যাচেলর দিবসে হবিগঞ্জ শহরতলীর বিভিন্ন মেসে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ভালো যাচ্ছে না তাদের দিনকাল।
শহরের রাজনগর এলাকায় মেসে থাকা বৃন্দাবন সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব আল হাসান রাইমুল বলেন, আজ ব্যাচেলর দিবস মনেই নেই। অন্যান্য সময় আমাদের পার্টি চলত রুমে অথচ আজ আর সেটার আনন্দই জাগছে না। ৫জন সদস্য আমাদের মেসে যেখানে বছর খানেক পূর্বে খাবারে ডাল-আলু,সবজি দিয়ে জনপ্রতি খরচ হত ১৫'শ টাকা সেখানে বর্তমানে খরচ হয় ৩২শ টাকা। দুটো টিউশনি করিয়ে যা পাই তা দিয়ে নিজের হাত খরচ চলে বাকি পুরো টাকাই বাড়ি থেকে আনতে হয়।
শচীন্দ্র কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ আহমেদ বলেন, মেসে উঠেছিলাম পড়াশোনার পাশাপাশি একটা জব করব বলে। একটা ক্লিনিকে জয়েন করছি তবে টাকার তুলনায় সময় বেশি হওয়ায় এবং পড়াশোনার ক্ষতি পাশাপাশি বাড়ি থেকে মাস শেষে টাকা এনে খরচ চালানো পোষায় না তাই মেস ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসছি। শায়েস্তানগর মেসে থাকা কয়েকজন ব্যাচেলরদের সাথে কথা বললে শরীফুল ইসলাম রাজ বলেন, আমার গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট কোন ভালো জব পাচ্ছি না তাই ফুড পান্ডাতে কাজ করছি তবে এতে নিজের খরচই চলে না।
একদিকে নিজের ভরণপোষণ অন্যদিকে পরিবারের চিন্তা, কাজ নেই ভালো আয়ও নেই তার মাঝে প্রতিনিয়ত দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সব মিলিয়ে ব্যাচেলরদের দিনকাল যেখানে কষ্টে যাচ্ছে সেখানে দিবস আনন্দ হাসি পাওয়ারই নামান্তর।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




