লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে টিভিতে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর ভাষণ শুনছেন তার সমর্থকরা। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। ভাষণে তিনি বলেছেন, ইসরাইল সীমান্ত বরাবর হিজবুল্লাহর অপারেশন আরও বাড়ানো হয়েছে। যা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য মতে, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের যোদ্ধা ও হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরাইলে হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। লেবানন ইসরায়েল সীমান্ত এবং ১৯৪৮ সালে ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চলের পাশাপাশি অধিকৃত গোলান হাইটস ও গ্যালিলি অঞ্চলে উভয় বাহিনীর যোদ্ধাদের জড়ো করা হয়েছে।
শনিবার (১১ নভেম্বর) হিজবুল্লাহ শহীদ দিবসের স্মরণে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬ টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন হাসান নাসরুল্লাহ যা টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে। তিনি এমন সময় ভাষণ দিলেন যখন গাজা পরিস্থিতি আলোচনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শুরু হয়েছে আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলন।
ভাষণে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, ‘হামলার সংখ্যা, আকার ও টার্গেট সংখ্যার পাশাপাশি অস্ত্রের ধরণ বাড়ানো হয়েছে।’ হামলায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা বুরকান নামে নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে বলেও জানান নাসরুল্লাহ। তিনি বলেন, এ ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরক পেলোড ৩০০ কেজি থেকে ৫০০ কেজি। এছাড়া প্রথমবারের মতো সশস্ত্র ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
নাসরাল্লাহ বলেন, চলতি মাসের শুরুতে লেবাননে তিন বালিকা ও তাদের দাদীকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে প্রথমবারের মতো ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত শমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। লেবানন ফ্রন্ট থেকে এই হামলা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
গত মাসে ইসরাইলি হামাসের আকস্মিক অভিযানের পরদিন থেকেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে হিজবুল্লাহ। তখন থেকেই ইসরাইলে সীমান্তে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা। সংঘাতের প্রায় এক মাস পর গত ৩ নভেম্বর প্রথমবার ভাষণ দেন গোষ্ঠীটির প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ।
ওই ভাষণে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ‘আল-আকসা তুফান’ অভিযান প্রমাণ করেছে দখলদার ইসরাইল মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল। তিনি আরও বলেন, অভিযান ফিলিস্তিনিদের সিদ্ধান্তে হয়েছে। ফিলিস্তিনিরাই সব কিছু করেছে, তারাই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। অভিযানের বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় ছিল বলেই তা সফল হয়েছে।
এদিকে হিজবুল্লাহর সেকেন্ড ইন কমান্ড শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, গাজায় ইসরাইলের আক্রমণে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হবে। শনিবার বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুতর ও ভীষণ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং এর পরিণতি কেউ আটকাতে পারবে না।’
JA




