মসজিদে সেজদারত অবস্থায় যুবককে ছু রি কা ঘাত
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ PM

মসজিদে সেজদারত অবস্থায় যুবককে ছু রি কা ঘাত

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০৯/২০২৬ ০৭:৫৪:২৫ PM

মসজিদে সেজদারত অবস্থায় যুবককে ছু রি কা ঘাত

সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পূর্ব-বিরোধের জেরে জুমার নামাজে সেজদারত অবস্থায় এক যুকককে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছেলেকেরক্ষা করতে গিয়ে তার বাবাও আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার উপজেলার বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীড়গাঁও গ্রামের পশ্চিম পাড়ার নাহিদ ইসলাম (২৪) ও তার বাবা সাইফুর রহমান (৫৫)।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের পশ্চিম পাড়ার নাহিদ ইসলাম ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জুবায়েরের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে কয়েক মাস আগে নাহিদ ইসলামের লোকজন ইউপি সদ্যস্যের লোকজনের উপর ছুরিকাঘাত করে। ওই ঘটনায় নাহিদ ইসলামসহ তাদের লোকজনের বিরেুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর নাহিদ কারাভোগ করে আদালত থেকে জামিন পান। সেই মারামারির জের ধরে ও প্রতিশোধ নিতে আজ তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

আহত নাহিদ ইসলামের ভাই হিরু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘মসজিদে নামাজরত অবস্থায় নাহিদ ও তার বাবা সাইফুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়। গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়ের মিয়া নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হামলা করান। হামলায় ইউপি সদস্যের আত্মীয় রেজাউল, আফজল, জুনেল, সেবির, সুবাদসহ আরও ৭-৮ জন ছিলেন।’

বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হোসাইন আহমদ ও মঈনুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি পূর্ব-বিরোধের জেরেই মসজিদের ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে। সেই ঘটনায় মামলা মোকদ্দমা চলছে। সেই ঘটনার জের ধরে নাহিদের ওপর হামলা হয়। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার বাবা সাইফুর রহমান আহত হন।পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুজেল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুবায়ের ও নাহিদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের ঘটনায় মারামারি মামলায় নাহিদ প্রায় দেড় থেকে দুই মাস কারাভোগ করে সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পান। আজকের ঘটনাটি সেই ঘটনার জের ধরেই ঘটেছে।’

তিনি জানান, আজ নাহিদ জুমার নামাজ পড়তে বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে যান। সেখানে সেজদারত অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় তার বাবা সাইফুর রহমানও আহত হন। তাদেরকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পুর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ইঞ্জিনিয়ারকে সাথে নিয়ে একটা ব্রীজ পরিদর্শনে ছিলাম। বেশ কিছুদিন আগে এই নাহিদ একজনকে আঘাত করেছে। এর পরেও সে বুক ফুলিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করে এসব সহ্য হয়নি বলে এই হামলা হয়েছে বলে খবর পেয়েছি।’

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, ‘পুর্ব-বিরোধের জেরে আজকের মসজিদের ভেতরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে৷ যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে।’এই বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা