গাজা ইস্যুতে শত্রু থেকে বন্ধু হয়ে এক টেবিলে সৌদি-ইরান
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১০:৩৯ AM

গাজা ইস্যুতে শত্রু থেকে বন্ধু হয়ে এক টেবিলে সৌদি-ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/১১/২০২৩ ০৫:৫৪:৩৩ AM

গাজা ইস্যুতে শত্রু থেকে বন্ধু হয়ে এক টেবিলে সৌদি-ইরান

গাজা ইস্যুতে শত্রু থেকে বন্ধু হয়ে এক টেবিলে সৌদি-ইরান


গাজা ইস্যুকে সামনে রেখে প্রায় সাত বছর বন্ধ থাকার পর নিজেদের মধ্যকার সকল ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব অবসান করে ফের এক টেবিলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আওয়াজ তুললেন ইরান ও সৌদি সরকার।

সৌদি আরবের রিয়াদে শনিবার (১১ নভেম্বর) ওআইসি ও আরব লীগের নেতারা করণীয় ঠিক করতে বৈঠকে বসেন। সৌদির আমন্ত্রণে সম্মেলনে যোগ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। গাজায় নির্বিচার বোমা হামলা এখনই বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। খবর বিবিসি ও আল জাজিরার।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রিয়াদে সম্মেলন শুরু হয়। ওআইসি ও আরব লীগ নেতাদের উদ্দেশে যুবরাজ বলেন, গাজায় সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সব জিম্মি ও বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

সৌদি যুবরাজ বলেন, এটি এমন এক মানবিক বিপর্যয়, যা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্বৈতনীতির প্রমাণকে স্পষ্ট করেছে।

মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, এখন শান্তির একমাত্র উপায় হলো ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও অবৈধ বসতি স্থাপনের অবসান, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিষ্ঠিত অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ১৯৬৭ সালের প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই তার দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা পালন করতে হবে, যাতে অবিলম্বে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে এই প্রতিহিংসামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়। আমরা মার্কিন প্রশাসনকে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং আমাদের পবিত্র স্থানের দখল ও সেখানকার পবিত্রতা লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান জানাই।


সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, গাজায় এখনই নির্বিচার বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে। সমগ্র ইসলামী বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং এই ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারব।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে ইসরায়েলকে সমর্থন করছে এবং ফিলিস্তিনিদের হত্যা প্রতিরোধে নেওয়া প্রস্তাবে ভেটো দিচ্ছে। এটি ইসরায়েল আরো হত্যাযজ্ঞ, আরো বোমাবর্ষণ এবং আরো গোলাবর্ষণের সুযোগ পাচ্ছে।

আমি আশা করি এই শীর্ষ সম্মেলনের শেষে আমরা একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারব যা ফিলিস্তিনি জনগণের সুবিধার জন্য হবে।

এর আগে সৌদির উদ্দেশ্যে ইরান ত্যাগ করার আগে প্রেসিডেন্ট রাইসি সাংবাদিকদের বলেন, গাজা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরবিরোধী সংকেত দিচ্ছে। রাইসি অভিযোগ করেন, আমেরিকানরা একবার বলে তারা যুদ্ধের সম্প্রসারণ চায় না কিন্তু তাদের কথা ও কাজ মেলে না। যুক্তরাষ্ট্রই ইহুদিবাদীদের যুদ্ধের রসদ জোগায়।

প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসলামী বিশ্বের কিছু করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন।

JA