ছবি:সংগৃহীত
সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের দর্শা মৌজার কৃষিজমির ওপর দিয়ে প্রস্তাবিত খাল খনন পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করা হলে শত শত কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দর্শা ও ঘোপাল উত্তর মৌজার উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিম দর্শা, পূর্ব দর্শা, বাছিরপুর ও সোনাপুরের কৃষিজমির মালিক ও এলাকাবাসী যৌথভাবে সভার আয়োজন করেন।
পশ্চিম দর্শা গ্রামের মুরব্বি সাদ খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গৌসুল হোসেন চৌধুরী লনু মিয়া, আব্দুস সামাদ ও সার্ভেয়ার রফিক আহমেদ।
কৃষক ও জমির মালিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান, সাদ উদ্দিন, বাবুল মিয়া, আব্দুল হক, আনোয়ার, রুহেল আহমদ, মুহিবুর রহমান মাখন, শুয়েবুর রহমান, আবুল কালাম, ফারুক মিয়া, আনছার আলী, আব্দুল হামিদ, মুহিব, বেলাল, সুরমান আলী, কয়েস আহমদ, সারো মিয়া, পংকি মিয়া, দিলওয়ার, বিলাল, জয়নাল, শ্যামল ও আব্দুল বাশির।
এ ছাড়া বাছিরপুর গ্রামের কৃষক ও মুরব্বিদের পক্ষে বক্তব্য দেন মো. তাজ উদ্দীন, মুক্তার আলী, তেরা মিয়া, কাঁচা মিয়া, আব্দুস শহীদ ও জাহাঙ্গীর মিয়া। সোনাপুর গ্রামের পক্ষে বক্তব্য দেন শফিক মিয়াসহ অন্যরা।
সভায় বক্তারা বলেন, দর্শা মৌজার ওপর দিয়ে খাল খননের পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এলাকার শত শত কৃষক সারা বছর কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এই মৌজার ভেতর দিয়ে খাল খনন করা হলে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি দুই পাশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে এক পাশ থেকে অন্য পাশে গিয়ে জমি চাষ করা কৃষকদের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।
বক্তারা আরও বলেন, এলাকার কৃষিকাজে সেচের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিআরটিসি এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেচ প্রকল্প চালু করেছে। বর্তমানে ওই প্রকল্পের পানি ব্যবহার করে জমিতে চাষাবাদ চলছে। নতুন করে খাল খনন করা হলে সরকারি অর্থায়নে গড়ে তোলা সেচ প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিদ্যমান সেচব্যবস্থা ও কৃষিজমির ক্ষতি করে নতুন খাল খননের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।
খাল খননের বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরে কৃষকেরা বলেন, দর্শা মৌজার পশ্চিম পাশে ঘোপাল উত্তর মৌজায় সরকারের খাসজমি রয়েছে। সরকার খাল খনন করতে চাইলে ওই খাসজমি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কৃষকদের জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং তাঁদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
বক্তারা বলেন, পশ্চিম দর্শা, পূর্ব দর্শা, বাছিরপুর ও সোনাপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা এসব কৃষিজমির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার উৎপাদিত ধান ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি সিলেটের স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সরবরাহ করা হয়। অপরিকল্পিত খাল খনন করা হলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, এলাকাটি বিএনপির সমর্থক অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। এমন একটি অঞ্চলের কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে তাঁদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
কৃষিজমি, সেচব্যবস্থা ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তাবিত খাল খনন পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় কৃষকেরা।
অপরিকল্পিত খাল খনন বন্ধের দাবিতে দর্শায় কৃষকদের প্রতিবাদ সভা




