সংগৃহীত
মাদারীপুরের ডাসারে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় পুতুল সমাদ্দার (৫২) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ধামুসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী অরুণ সমাদ্দার ও সারথী দে নামে এক নারীর পলাতক থাকার কথা জানিয়েছে স্থানীয়রা।
পুতুল সমাদ্দার ধামুসা গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত পুলিন নাগের মেয়ে। অভিযুক্ত অরুণ সমাদ্দার একই গ্রামের মৃত জিতেন সমাদ্দারের ছেলে। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরুণ সমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার সারথী দে নামে এক গৃহবধূর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস-মিমাংসাও হয়েছে। তবে তাতেও বিরোধের সমাধান হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
আজ ভোরে এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রান্নাঘরে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় পুতুল চিৎকার করলে তার চিৎকার শুনে অরুণের বড় বোন পুষ্প দাস সেখানে ছুটে যান। পরে তিনি পুতুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পর অরুণ সমাদ্দার সেখান থেকে পালিয়ে যান।
নিহতের বড় বোন পুষ্পা রাণী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোনজামাই অরুণের চরিত্র ভালো ছিল না। একই এলাকার সারথী নামে এক গৃহবধূর সঙ্গে তাঁর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এমনকি ওই নারীকে বাড়িতেও নিয়ে আসতেন। এ নিয়ে আমার বোন প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন। সেই বিরোধের জেরেই আমার বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমি অরুণ ও তার পরকীয়া প্রেমিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ডাসার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গৌতম সরকার বলেন, পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও অভিযুক্ত নারী পলাতক রয়েছেন।
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুতুল সমাদ্দারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা




