ছবি:সংগৃহীত
পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণে অনিয়ম রোধে তৎপর হয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। অনুমোদিত নকশা অনুসরণ, ভবনের নির্ধারিত খালি জায়গা (সেটব্যাক) রাখা, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণসামগ্রী রেখে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়গুলো সরেজমিনে তদারকি করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন ভবনের বেইজমেন্ট বা নিচতলায় জমে থাকা পানি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করলে সংশ্লিষ্ট ভবনমালিককে কমপ্লিশন ও অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সিউক।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নগরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন পরিদর্শনকালে এসব কথা জানান সিউক চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানান, নগরে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম নিয়মের মধ্যে রাখতে প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সিউক চেয়ারম্যান বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন নগরের নির্মাণাধীন বহুতল ভবন পরিদর্শন করা হচ্ছে। এসব পরিদর্শনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, নির্ধারিত সেটব্যাক ও ভবনের উচ্চতা ঠিক রাখা হচ্ছে কি না এবং ভবনের সামনে প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
সিউক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার খাদিমপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আগামী রোববারের মধ্যে নিজ দায়িত্বে জমে থাকা পানি অপসারণের জন্য ভবন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি সরানো না হলে পুনরায় পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে কয়েস লোদী বলেন, নগরের বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেইজমেন্টে পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ভবনমালিকদের নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সড়কের ওপর যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।
ভবন নির্মাণে মালিকদের পাশাপাশি প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সিউক চেয়ারম্যান বলেন, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবনের কমপ্লিশন সার্টিফিকেট এবং পরবর্তী সময়ে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অকুপেন্সি সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ নেওয়া হয়।
পরিদর্শনে কয়েকটি ভবনে তদারকির ঘাটতি পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ভবনমালিক নির্মাণকাজের কারিগরি বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়াই ঠিকাদারেরা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বহুতল ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এ ধরনের প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, একটি ভবন শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড ও প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হলে ফুটপাত ও ভবনের সামনের প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত থাকবে এবং ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের চাপ কমার পাশাপাশি নগরের যান চলাচলও স্বাভাবিক থাকবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে সিউক চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা শুধু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সিউকের চলমান উদ্যোগে নগরবাসী ইতিবাচক সাড়া দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে সিউকের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. সাদিউর রহিম জাদিদসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নগরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন পরিদর্শনকালে এসব কথা জানান সিউক চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানান, নগরে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম নিয়মের মধ্যে রাখতে প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সিউক চেয়ারম্যান বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন নগরের নির্মাণাধীন বহুতল ভবন পরিদর্শন করা হচ্ছে। এসব পরিদর্শনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, নির্ধারিত সেটব্যাক ও ভবনের উচ্চতা ঠিক রাখা হচ্ছে কি না এবং ভবনের সামনে প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
সিউক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার খাদিমপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আগামী রোববারের মধ্যে নিজ দায়িত্বে জমে থাকা পানি অপসারণের জন্য ভবন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি সরানো না হলে পুনরায় পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে কয়েস লোদী বলেন, নগরের বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেইজমেন্টে পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ভবনমালিকদের নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সড়কের ওপর যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।
ভবন নির্মাণে মালিকদের পাশাপাশি প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সিউক চেয়ারম্যান বলেন, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবনের কমপ্লিশন সার্টিফিকেট এবং পরবর্তী সময়ে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অকুপেন্সি সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ নেওয়া হয়।
পরিদর্শনে কয়েকটি ভবনে তদারকির ঘাটতি পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ভবনমালিক নির্মাণকাজের কারিগরি বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়াই ঠিকাদারেরা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বহুতল ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এ ধরনের প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, একটি ভবন শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড ও প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হলে ফুটপাত ও ভবনের সামনের প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত থাকবে এবং ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের চাপ কমার পাশাপাশি নগরের যান চলাচলও স্বাভাবিক থাকবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে সিউক চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা শুধু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সিউকের চলমান উদ্যোগে নগরবাসী ইতিবাচক সাড়া দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে সিউকের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. সাদিউর রহিম জাদিদসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




