সংগৃহিত
সিলেটের জৈন্তাপুরে স্থানীয়দের তল্লাশি ও পুলিশের অভিযানে একটি বাড়ি থেকে ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, চার পুরিয়া গাঁজা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক রমজান আলীকে (৪৫) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ডিবির হাওর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। আটক রমজান আলী ডিবির হাওর গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ডিবির হাওর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা মসজিদের মাহফিল আয়োজনসংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, এলাকার রমজান আলীর বাড়িতে মাদক সেবন চলছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তার বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় রমজান আলীর পরিহিত লুঙ্গির নিচে প্যান্টের মধ্যে রাখা অবস্থায় ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন তারা।
পরে বিষয়টি জৈন্তাপুর মডেল থানাকে অবহিত করা হলে উপপরিদর্শক (এসআই) উৎসব কর্মকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি রমজান আলীর সঙ্গে থাকা সন্দেহভাজন আরও দুই ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে পুলিশ রমজান আলীর শয়নকক্ষ তল্লাশি করে তোষকের নিচে পৃথক দুটি স্থান থেকে চার পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খানকে অবহিত করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য পরিদর্শন করেন এবং রমজান আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে রমজান আলী গাঁজা সেবনের বিষয়টি স্বীকার করলেও উদ্ধার হওয়া গাঁজা তার ঘরে ছিল বলে স্বীকার করেন। অন্যদিকে, ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও সেবনের সরঞ্জামাদির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খান বলেন, পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া চার পুরিয়া গাঁজা ও ১১টি কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট তার সামনে উপস্থাপন করা হয়। ওই ব্যক্তি গাঁজার বিষয়টি স্বীকার করলেও ইয়াবার বিষয়ে অস্বীকার করেন। ইয়াবাগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশপত্রের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ সময় রমজান আলীর সঙ্গে আটক হওয়া সন্দেহভাজন অপর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ বা উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা দায়েরের বিষয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান আলীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে জৈন্তাপুর মডেল থানায় ৪৮ বিজিবির দায়ের করা একটি মাদক মামলা রয়েছে। ওই মামলার নম্বর ২৭। এছাড়া ডিবির হাওর এলাকায় তিনি মাদকসেবী ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




