ছবি : সংগ্রহীত
ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকার এক মাস পেরিয়েছে মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর)। এখনো তা বন্ধ। শুধু কেন্দ্রীয় নয়, দলটির জেলা কার্যালয়গুলোর বেশির ভাগ তালাবদ্ধ। সেগুলো কবে খোলা যাবে, কবে নেতা-কর্মীরা আবার আগের মতো আনাগোনা শুরু করবেন, তা কেউ জানেন না।
দেশের ৬৪টি জেলায় গত দুই দিনে বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে, খোঁজ নিয়ে এবং দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটির ৫৬টি জেলা কার্যালয়ই বন্ধ। চারটি জেলায় দলের কার্যালয় নেই। খোলা আছে চারটি। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাহারা, টহল অথবা গোয়েন্দাদের তৎপরতা থাকে। গেলেই গ্রেপ্তারের ভয় আছে। নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে। ফলে কার্যালয় খোলা হয় না।
৬৪ জেলাসহ বিএনপির সাংগঠনিক জেলা মোট ৮২টি। বিভাগীয় শহরগুলোর মহানগর কার্যালয় যেমন আছে, তেমনি রয়েছে জেলা কার্যালয়। কোথাও কোথাও বড় জেলা সাংগঠনিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত। ৮০টি সাংগঠনিক জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭২টির কার্যালয়ই বন্ধ (কোথাও কোথাও জেলা ও মহানগর কার্যালয় একই ভবনে অথবা একই কার্যালয়ের ভেতরে)। চারটিতে দলের কার্যালয় নেই, চারটিতে খোলা (আগে উল্লেখ করা জেলা কার্যালয়)।
যে চার জেলায় বিএনপির কার্যালয় খোলা পাওয়া গেছে তা হলো ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর। তবে এসব কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা খুবই কম। জেলা পর্যায়ের নেতারা বলছেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা সেখানে যান না।
কার্যালয়গুলোর বেশির ভাগ বন্ধ রয়েছে গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে, যেদিন ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশের অভিযানে পণ্ড হয়ে যায়। ওই দিন পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের এক সদস্যসহ দুজন নিহত হন। এরপর পুলিশ সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ২৮ অক্টোবরের ওই মহাসমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি।
সেলিমা রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে যেতে পারছেন না। তবে কাজ করছেন। এই অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন আসবে। ২৮ অক্টোবর দুপুরে মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর ওই দিন রাতেই ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, তারা তালা দেয়নি। বিএনপির দাবি, পুলিশই তালা দিয়েছে।
পুলিশ গত ২৯ অক্টোবর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কড়া পাহারা বসায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কার্যালয়টির সামনে ‘ডু-নট ক্রস-ক্রাইম সিন’ লেখা হলুদ ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখে। দুই দিন পর দুই পাশে বসানো হয় কাঁটাতারের ব্যারিকেড। ১৪ নভেম্বর ব্যারিকেড সরানো হয়। তবে এখনো বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত পুলিশি পাহারা ও গোয়েন্দাদের উপস্থিতি থাকে।
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৪টিতে বিএনপির স্থায়ী বা অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। ছয়টি জেলায় কার্যালয় হিসেবে বিএনপির কোনো নেতার বাসা অথবা অফিসকে ব্যবহার করা হয়। চারটিতে কোনো কার্যালয় নেই।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




